আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টা ৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লেখা মেসির খোলা চিঠিটি পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো। ‘ফাইনালের পর এতটা সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কষ্টের ছিল, এখনও হৃদয়ের গভীরে সেই কষ্ট রয়েছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সেই সময়। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমি সবসময় আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি। শুধু গত কয়েক বছরে নয়, তারও অনেক আগে থেকে। সবসময় এই জার্সির জন্য লড়েছি, নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি—আপনাদের আনন্দ দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা করেছি।
আর বেশি সময় বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে আসছে, আর এটাও এমনই একটি অধ্যায়—যেটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সারাজীবন ভালোবেসে যাব জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে। আমি নিজেকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছুই আমার অবশিষ্ট নেই। তার ওপর আমার পেছনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।
গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে যাব—বাইরে থেকে সবসময় সমর্থন করব, পাশে থাকব। (ভালো সময়ে এবং খারাপ সময়ে, বিশেষ করে খারাপ সময়ে আরও বেশি।)
আমার পরিবারের প্রতি ধন্যবাদ, সবসময় আমার পাশে থাকার জন্য এবং এই সুন্দর অথচ কঠিন যাত্রায় আমার সঙ্গে থাকার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি অসংখ্য স্মৃতি এবং জীবনের কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
আমি এই শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, আমার সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু স্বপ্নের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, যেগুলো আমরা সবাই কল্পনা করেছিলাম। আপনাদের সঙ্গে সেগুলো বেঁচে থাকা সত্যিই এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। আমি আপনাদের ভালোবাসি! আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর লিখেছিলাম। আজ আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত যে আমার সিদ্ধান্ত সঠিক।’

ডেস্ক রিপোর্ট 
























