অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলার সব ধরনের ছক তৈরি করে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, কয়েক মাস আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে গালিগালাজ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রাশেদ খানের দাবি, গাজীপুরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ওই তরুণ প্রধানমন্ত্রী ও তার মা-বাবাকে নিয়ে ‘অশ্লীল ও কদর্য’ ভাষায় মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিকার না হলে তা সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিলের অসামঞ্জস্যতা তৈরি হলে সেটির সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়াই নিয়ম। এ কারণে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ওই তরুণকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার মতে, এ ধরনের ঘটনায় জনতার মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। তাই সামাজিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাইবার অপরাধ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পোস্টের শেষাংশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তার দাবি, নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি ও ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের ফলে পরবর্তী সময়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলার ‘সব ছক’ তৈরি করে গেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে মানুষ এমন কথাও বলতে পারে—শেখ হাসিনা ও ড. ইউনূসের সময়ই তারা ভালো ছিলেন।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে রাশেদ খানের এসব বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক মন্তব্য ও দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















