ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, আটক ২ চলতি সপ্তাহে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের প্রত্যাশা মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শোভাযাত্রা: ওসি বললেন ‌‘খবর পাইনি, ফেসবুকে দেখেছি’ ফ্যাসিবাদীদের বিচার না করলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে গঙ্গা চুক্তির ত্রুটি ও শেখ হাসিনার রহস্যময় নিরবতা ৬০ লাখ ডলারের অনলাইন প্রেমের প্রতারণা, ৬ নাইজেরীয়কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা উপদেষ্টা সর্বস্ব হারিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ‘জুয়া’ ছাড়ার প্রতিজ্ঞা প্রশাসনকে ‘জি হুজুর’ বলার জন্য নয়, ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম: এজিএস ভুল অগ্রাধিকারের পথে হাঁটছে সরকার: নেজামে ইসলাম

চলতি সপ্তাহে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের প্রত্যাশা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, ‘পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। প্রকল্প প্রস্তাবের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রামপালে বিদ্যমান এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।’

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত সৌর ফোটোভোলটাইক (পিভি) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৯১৮.৫ একর অব্যবহৃত জমিতে নির্মাণ করা হবে। জমিটি এর আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ব্যবহার করা হবে।’

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট ও সীমানা সুরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন স্থানে প্রকল্প নির্মাণের তুলনায় (গ্রিনফিল্ড প্রকল্প) নির্মাণ ব্যয় কমার পাশাপাশি বাস্তবায়নের সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত চাপ কমাতেও প্রকল্পটি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের বাংলাদেশের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি প্যারিস চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে রূপান্তর বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জ্বালানি অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। এটি আরও পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবেলায় সক্ষম বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।’

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট আনুমানিক ৮ টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম।

এদিকে, সরকার জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের (২০২৬-২০৩০) আওতায় রুফটপ সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং এ খাতে উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, আটক ২

চলতি সপ্তাহে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের প্রত্যাশা

আপডেট সময় ০১:৫৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, ‘পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। প্রকল্প প্রস্তাবের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রামপালে বিদ্যমান এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।’

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত সৌর ফোটোভোলটাইক (পিভি) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৯১৮.৫ একর অব্যবহৃত জমিতে নির্মাণ করা হবে। জমিটি এর আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ব্যবহার করা হবে।’

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট ও সীমানা সুরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন স্থানে প্রকল্প নির্মাণের তুলনায় (গ্রিনফিল্ড প্রকল্প) নির্মাণ ব্যয় কমার পাশাপাশি বাস্তবায়নের সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত চাপ কমাতেও প্রকল্পটি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের বাংলাদেশের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি প্যারিস চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে রূপান্তর বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জ্বালানি অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। এটি আরও পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবেলায় সক্ষম বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।’

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট আনুমানিক ৮ টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম।

এদিকে, সরকার জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের (২০২৬-২০৩০) আওতায় রুফটপ সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং এ খাতে উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে।