কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ও বাস্তব কনটেন্টের পার্থক্য স্পষ্ট করতে বড় পরিবর্তন আনছে ইউটিউব। দর্শকদের বিভ্রান্তি কমানো এবং কনটেন্টে স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্ল্যাটফর্মটি স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও নতুন ‘এআই ডিসক্লোজার লেবেল’ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ভিডিওতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এআই ব্যবহার করা হলে ইউটিউব তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবে। ফলে কোনো নির্মাতা এআই ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ না করলেও প্ল্যাটফর্ম নিজেই ভিডিওতে ডিসক্লোজার লেবেল যুক্ত করবে।
ইউটিউব জানিয়েছে, কনটেন্ট নির্মাতাদের এআই ব্যবহারের বিষয়টি স্বেচ্ছায় প্রকাশ করার বর্তমান নীতিমালা বহাল থাকবে। তবে এ মাস থেকেই এমন প্রযুক্তি চালু করা হচ্ছে, যা ভিডিওতে বাস্তবসম্মত এআই ব্যবহারের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় বড় বা দীর্ঘ ভিডিওর ক্ষেত্রে এআই ট্যাগ ভিডিও প্লেয়ারের নিচে প্রদর্শিত হবে। অন্যদিকে ইউটিউব শর্টসের ক্ষেত্রে ভিডিও চলাকালে স্ক্রিনের ওপর সরাসরি ওভারলে হিসেবে লেবেলটি দেখা যাবে, যাতে দর্শকরা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারেন কনটেন্টটি এআই দ্বারা তৈরি কি না।
ইউটিউব আরও জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব জেনারেটিভ এআই টুল যেমন ‘ভিও’ (Veo) বা ‘ড্রিম স্ক্রিন’ ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট এবং ‘সি২পিএ’ (C2PA) মেটাডেটা যুক্ত ভিডিওগুলোর ক্ষেত্রে এআই লেবেল বাধ্যতামূলক থাকবে এবং তা সরানো যাবে না।
ইউটিউবের ‘হেড অব এডিটোরিয়াল অ্যান্ড ক্রিয়েটর লিয়াজোঁ’ রিনি রিচি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দর্শকদের কাছে বিষয়টি এক নজরে স্পষ্ট করে তোলা। কোনো ভিডিও বাস্তব মনে হলেও যদি সেটি এআই দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে দর্শক যেন তা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারেন।”
তবে ইউটিউব স্পষ্ট করেছে, এআই লেবেল যুক্ত হওয়ার ফলে কোনো ভিডিওর রিকমেন্ডেশন, ভিউয়ারশিপ বা মনিটাইজেশনে কোনো প্রভাব পড়বে না। এটি কেবল দর্শকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার একটি উদ্যোগ।
এদিকে প্ল্যাটফর্মটি তাদের ‘লাইকনেস ডিটেকশন’ প্রোগ্রামও সম্প্রসারণ করছে। এর মাধ্যমে নির্মাতারা জানতে পারবেন, তাদের চেহারা বা অবয়ব নকল করে কোনো এআই-নির্ভর ভিডিও তৈরি করা হয়েছে কি না। এমন কনটেন্ট শনাক্ত হলে ইউটিউব স্টুডিওর মাধ্যমে তা অপসারণের অনুরোধও জানাতে পারবেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইনে এআই-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার বাড়তে থাকায় ইউটিউবের এই পদক্ষেপ দর্শকদের জন্য বাস্তব ও কৃত্রিম কনটেন্ট আলাদা করে চেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

ডেস্ক রিপোর্ট 






















