ইসরায়েলকে ‘গণহত্যার অর্থনীতি’ পরিচালনার জন্য দায়ী করে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রানচেসকা আলবানিজ। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।
আলবানিজ বলেন, “ইসরায়েল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যার জন্য দায়ী। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবস্থা এখন ভয়াবহ।”
তিনি জাতিসংঘে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের সহিংসতা ও দমন-পীড়নে সহায়তাকারী একাধিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, যারা কেউ অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে, কেউ নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহে, আবার কেউ সরাসরি ফিলিস্তিনিদের নিপীড়নে ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানকে ইসরায়েলের দখলদারি ও উপনিবেশ পরিকল্পনার ‘যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাদের কার্যক্রমের ফলে বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও স্কুল।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। গাজার ৮৫ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
আলবানিজ আরও জানান, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারমূল্য অন্তত ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে যুক্ত হয়েছে ২২ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূলধন। তিনি বলেন, “এক জাতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, আরেক জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে। গণহত্যাও এখন কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের সামরিক-শিল্প খাত দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি, আর গাজা হয়েছে অস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র। গাজায় ফেলা বিস্ফোরকের পরিমাণ হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার চেয়ে ছয় গুণ বেশি শক্তিশালী—৮৫ হাজার টনের বেশি।
আলবানিজের দাবি, রাজনৈতিক নেতারা গাজায় রক্তপাত থামাতে ব্যর্থ হলেও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই সংকট থেকে সরাসরি মুনাফা করছে। প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, নইলে মানবাধিকারের মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা

