এবার পরিবারের অমতে বিয়ে করায় ২৪ বছর বয়সী এক তরুণীকে পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিমল শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত তরুণীর নাম অঙ্কিতা। পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি ভারত–তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্য অমিত পাচৌরির সঙ্গে আদালতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর অমিত কর্মস্থলে ফিরে গেলেও অঙ্কিতা বাবা–মায়ের বাড়িতেই থাকছিলেন। এ সময় বিয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিমল শর্মা মেয়েকে মারধর করেন। পরে একটি ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার সময় অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। হত্যার পর তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে তিনি নিজে মরদেহের পাশে বসে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। প্রতিবেশীরা জানান, রাতের দিকে বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা দরজায় কড়া নাড়েন। কোনো সাড়া না পেয়ে এবং ঘরের আলো নিভে যেতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে অঙ্কিতাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তার গলায় শক্ত করে ওড়না পেঁচানো ছিল এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল বলে জানায় পুলিশ। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বিমল শর্মা পুলিশকে জানান, মেয়ের আদালতে গিয়ে বিয়ে করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। বারবার বোঝানোর পরও অঙ্কিতা সম্পর্ক থেকে সরে আসতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভের বশে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। ঘটনার পর পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















