ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে: সারজিস চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে নেমে মেয়র-এমপিদের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস ‘হিজাব ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়’, ভারতীয় আদালতের রায় কক্সবাজারে ঘুরতে এসে বাসের চাকায় পিষ্ট যুবক, মরদেহ সড়কে ফেলে পালাল সফরসঙ্গীরা পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার স্কুলে ছেলেকে শাসন করায় দুই শিক্ষককে বেল্ট খুলে পেটালেন বাবা সহকর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, প্রধান শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর নিজ বাসা থেকে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার এবার পুলিশ সদরদপ্তর অভিমুখে মিছিলের ডাক সিজেপির দুই সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পর স্থিতিশীল তেলের বাজার

পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া হত্যার কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা।

পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণ চারজনকে হত্যা করেছেন। তবে নিহতদের পরিবারের প্রশ্ন—শারীরিকভাবে দুর্বল ও কম বয়সী দুই তরুণের পক্ষে কীভাবে একসঙ্গে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব?

গত শনিবার রাতে কামালকাছনা এলাকার একটি নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতদের স্বজনরা।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশের দাবি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে দুই তরুণ একে একে চারজনকে হত্যা করেছে—এটি তারা মানতে পারছেন না।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায়ও বলেন, কম বয়সী ও শারীরিকভাবে দুর্বল দুই তরুণের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে আলমারি ও ড্রয়ার খোলা এবং তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। এসব বিষয় সামনে রেখে প্রকৃত ঘটনা খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের সদস্যরাও তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাসের দাবি, তার ছেলে সহজ-সরল এবং নেশা করলেও কাউকে হত্যা করতে পারে—এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। একইভাবে মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাসও ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেছেন।

তবে পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রংপুর মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুঁতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে সেখানকার পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনেই ইয়াবা সেবন করেছিলেন অভিযুক্তরা।

এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

তবে স্বজনদের প্রশ্ন আর পুলিশের বক্তব্য—দুইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি।

এখন তদন্তে প্রকৃত হত্যার কারণ কীভাবে বেরিয়ে আসে এবং চারজনকে হত্যার ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না—সেদিকেই নজর নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে: সারজিস

পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার

আপডেট সময় ১২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া হত্যার কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা।

পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণ চারজনকে হত্যা করেছেন। তবে নিহতদের পরিবারের প্রশ্ন—শারীরিকভাবে দুর্বল ও কম বয়সী দুই তরুণের পক্ষে কীভাবে একসঙ্গে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব?

গত শনিবার রাতে কামালকাছনা এলাকার একটি নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতদের স্বজনরা।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশের দাবি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে দুই তরুণ একে একে চারজনকে হত্যা করেছে—এটি তারা মানতে পারছেন না।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায়ও বলেন, কম বয়সী ও শারীরিকভাবে দুর্বল দুই তরুণের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে আলমারি ও ড্রয়ার খোলা এবং তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। এসব বিষয় সামনে রেখে প্রকৃত ঘটনা খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের সদস্যরাও তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাসের দাবি, তার ছেলে সহজ-সরল এবং নেশা করলেও কাউকে হত্যা করতে পারে—এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। একইভাবে মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাসও ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেছেন।

তবে পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রংপুর মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুঁতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে সেখানকার পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনেই ইয়াবা সেবন করেছিলেন অভিযুক্তরা।

এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

তবে স্বজনদের প্রশ্ন আর পুলিশের বক্তব্য—দুইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি।

এখন তদন্তে প্রকৃত হত্যার কারণ কীভাবে বেরিয়ে আসে এবং চারজনকে হত্যার ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না—সেদিকেই নজর নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের।