ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান আদালত কক্ষে আইনজীবীর সাথে বিরিয়ানি খেয়ে কারাগারে গেলেন সাহেদ আসিফের নিজ উপজেলাতেই ৪৫৩ কোটি, ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জ্বালানি খাতকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফেনী ‘যাহা বলিতেছি, সত্য বলিতেছি’- সারের মজুত নিয়ে সংসদে কৃষিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে: আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ীদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার দাবি জামায়াত এমপির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে: আসিফ মাহমুদ মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি, যুবক আটক, এলাকায় উত্তেজনা

ভারত টুকরো টুকরো না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দিবে না: আমান আযমী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪১২ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমী পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

আজমী দাবি করেন, “ভারত যতদিন টুকরো টুকরো না হয়ে যাবে, কেয়ামত পর্যন্ত বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দেবে না।” তার অভিযোগ, নয়া দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় সশস্ত্র শান্তিবাহিনী নিজ দাবিতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে; শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ভারত সাড়া দেয়নি, কিন্তু তার পতনের পর শান্তিবাহিনীকে আশ্রয়, খাবার, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আজমী আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, কিন্তু দলটি ক্ষমতায় না এলেই সেখানে অস্থিরতা দেখা দেয়।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে আজমী বলেন, এটি ছিল “তথাকথিত এবং আইওয়াশ চুক্তি।” তার দাবি, খাগড়াছড়ির অনুষ্ঠানে শান্তিবাহিনীর নেতা সন্তু লার্মা অচল অস্ত্র জমা দিলেও কার্যত সক্রিয় অস্ত্রভাণ্ডার গোপন রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ইউপিডিএফকে সংগঠিত হতে সহায়তা করে।

আজমীর মতে, “আওয়ামী লীগ সরকার শেষ হওয়ার পরপরই এই গ্রুপগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।” আজমী বলেন, অতীতের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ২০০টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়তা বাড়ানোর সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, “একসময় যেসব গ্রামে আমরা যেতাম, সেখানে সেনাবাহিনীর গায়ে হাত তোলা অকল্পনীয় ছিল। আজ সেই দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান

ভারত টুকরো টুকরো না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দিবে না: আমান আযমী

আপডেট সময় ০৯:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমী পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

আজমী দাবি করেন, “ভারত যতদিন টুকরো টুকরো না হয়ে যাবে, কেয়ামত পর্যন্ত বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দেবে না।” তার অভিযোগ, নয়া দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় সশস্ত্র শান্তিবাহিনী নিজ দাবিতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে; শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ভারত সাড়া দেয়নি, কিন্তু তার পতনের পর শান্তিবাহিনীকে আশ্রয়, খাবার, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আজমী আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, কিন্তু দলটি ক্ষমতায় না এলেই সেখানে অস্থিরতা দেখা দেয়।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে আজমী বলেন, এটি ছিল “তথাকথিত এবং আইওয়াশ চুক্তি।” তার দাবি, খাগড়াছড়ির অনুষ্ঠানে শান্তিবাহিনীর নেতা সন্তু লার্মা অচল অস্ত্র জমা দিলেও কার্যত সক্রিয় অস্ত্রভাণ্ডার গোপন রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ইউপিডিএফকে সংগঠিত হতে সহায়তা করে।

আজমীর মতে, “আওয়ামী লীগ সরকার শেষ হওয়ার পরপরই এই গ্রুপগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।” আজমী বলেন, অতীতের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ২০০টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়তা বাড়ানোর সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, “একসময় যেসব গ্রামে আমরা যেতাম, সেখানে সেনাবাহিনীর গায়ে হাত তোলা অকল্পনীয় ছিল। আজ সেই দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে।”