সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের চিকিৎসা দেশেই করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশেই উনার (রাষ্ট্রপতি) চিকিৎসা সম্ভব। প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এনে চিকিৎসা করানো হোক।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার নিজেরও জটিল রোগ হয়েছিল এবং ডাক্তার আমাকে বিদেশে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি যাইনি; আমি বলেছিলাম দেশেই চিকিৎসা করাব এবং এখানেই করিয়েছি। আমি চাই সবাই এখানেই চিকিৎসা নিক। তবেই দেশের চিকিৎসা উন্নত হবে।
রাষ্ট্রপতির দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তার দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা শুনিনি। কিন্তু আজকে শুনেছি তিনি গুরুতর অসুস্থ, মাঝে মাঝে ফেন্টিং অ্যাটাকে (হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা) পড়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান এবং বিশ্রামে থাকতে চান।
জুলাই গণহত্যায় রাষ্ট্রপতির দায়ভার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার (সাহাবুদ্দিন) দায়ভার আছে। তিনি এটি অস্বীকার করতে পারেন না। অভিভাবক হিসেবে ব্যার্থ তিনি এবং তার দায়িত্ব পালন করেননি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, তিনি এই গণহত্যা নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি, এটা অন্যায্য, জনগণের উপর এটা জুলুম, এটা থামাও—এরকম একটা কথাও আমরা শুনিনি। তিনি নিরবে এই গণহত্যার সমর্থন দিয়েছেন।
এর আগে আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরিত একটি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এ ছাড়া এর আগেই তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি তার ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামে একটি রোগ ধরা পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পদত্যাগপত্রে। এর ফলে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, এই শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















