স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬ অনুযায়ী আজীবন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে আজীবন পেনশন, মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসা সুবিধা, ব্যক্তিগত স্টাফ, বিশেষ নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট।
আইন অনুযায়ী, এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করতে হয়। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাসেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করায় তিনি এসব সুবিধার জন্য যোগ্য।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির বেতন বৃদ্ধি পেলে তাঁর পেনশনের পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে। তবে চাইলে অবসরের এক মাসের মধ্যে আবেদন করে মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিক গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে বিচার বিভাগে জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি বিচার বিভাগ থেকেও পেনশনের অধিকারী। তবে আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তি দুটি সরকারি পেনশন একসঙ্গে নিতে পারবেন না। ফলে তাঁকে যেকোনো একটি পেনশন সুবিধা বেছে নিতে হবে। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী পরিবার পেনশনের আওতায় মূল পেনশনের দুই-তৃতীয়াংশ পাবেন।
আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং অফিস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ পাবেন। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্ত্রী একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করবেন। প্রয়োজন হলে দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে।
এ ছাড়া তিনি ও তাঁর স্ত্রী আজীবন কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারি প্রয়োজনে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, সরকারি রেস্ট হাউস বা সার্কিট হাউসে বিনা খরচে অবস্থান এবং নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত সরকারি খরচে বাসভবনের টেলিফোন ব্যবহারের সুবিধাও পাবেন।
তবে আইন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তিনি যদি কোনো লাভজনক সরকারি পদে যোগ দেন অথবা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হন, তাহলে এসব অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা বাতিল হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























