ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ট্রাম্প ৭৫ বার ‘হরমুজ খোলা’, ১০৬ বার ‘ইরানের পরাজয়ের’ মিথ্যা দাবি করেছেন ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াতের সাবেক আমির তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, পতন শুরু হয়ে গেছে: পাটওয়ারী বিয়ের পর প্রাক্তনের কোলে শুভশ্রী, ভক্তদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া হঠাৎ করেই মেয়ে হয়ে গেল ছেলে, এলাকায় চাঞ্চল্য রাজশাহী থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানই কোথাও যাবে না: ভূমিমন্ত্রী সন্তানদের কাছে ফিরতে চান ভারত থেকে পুশইনের শিকার শাহিদা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দিলে ধরে নেওয়া হবে ভারত ইন্ধন দিচ্ছে: আসিফ মাহমুদ ছাত্রদলকে না সামলালে এই সরকারের পরিণতি আ.লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে: ছাত্রশিবির সভাপতি হাসিনার পালানো নিয়ে নতুন করে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

হাসিনার পালানো নিয়ে নতুন করে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্টার নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে যাওয়ার ঘটনাটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। কলরেকর্ড ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেশ ছাড়ার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ আগস্ট তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে এক কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধানকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন।

এদিকে, ব্যক্তিগত ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪ আগস্ট রাত থেকে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সামরিক বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। এমনকি বিমানে ওঠার পরও এক সামরিক কর্মকর্তা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে তার শেষ দিকের কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা দাবি করেছেন, ৩ আগস্ট থেকেই কয়েকটি নম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু কলের তথ্য ট্রাইব্যুনালে জমা না পড়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে আরও তদন্তের পাশাপাশি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলে তথ্য অনুপস্থিত থাকার কারণও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের কল সাইন ছিল ‘লিওপার্ড-১০৩’। এটি আগারগাঁও থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল সি-১৩০জে হারকিউলিস উড়োজাহাজ, যার কল সাইন ছিল ‘এজেএক্স-১৪১৩’

সাধারণ নিয়মে উড্ডয়নের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগলেও, ওই বিমান মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ট্যাক্সি ক্লিয়ারেন্স ও উড্ডয়নের অনুমতি পায়। বিমান বাহিনীর ভাষায়, এমন জরুরি উড্ডয়নকে ‘স্ক্রাম্বল’ বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ ফ্লাইং ইউনিট (এসএফইউ) এই উড্ডয়ন পরিচালনা করে।

আরও দাবি করা হয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে সেটিকে ট্র্যাক করা না যায়। ভারতের সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর আবার ট্রান্সপন্ডার চালু করা হয়। এছাড়া, প্রচলিত রুটের পরিবর্তে সাতক্ষীরা হয়ে বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ত্যাগ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ভারত গমনের ক্ষেত্রে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, কূটনৈতিক ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

আইনজ্ঞদের অভিমত, এ বিষয়ে আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প ৭৫ বার ‘হরমুজ খোলা’, ১০৬ বার ‘ইরানের পরাজয়ের’ মিথ্যা দাবি করেছেন

হাসিনার পালানো নিয়ে নতুন করে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ০৩:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্টার নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে যাওয়ার ঘটনাটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। কলরেকর্ড ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেশ ছাড়ার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ আগস্ট তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে এক কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধানকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন।

এদিকে, ব্যক্তিগত ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪ আগস্ট রাত থেকে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সামরিক বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। এমনকি বিমানে ওঠার পরও এক সামরিক কর্মকর্তা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে তার শেষ দিকের কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা দাবি করেছেন, ৩ আগস্ট থেকেই কয়েকটি নম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু কলের তথ্য ট্রাইব্যুনালে জমা না পড়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে আরও তদন্তের পাশাপাশি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলে তথ্য অনুপস্থিত থাকার কারণও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের কল সাইন ছিল ‘লিওপার্ড-১০৩’। এটি আগারগাঁও থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল সি-১৩০জে হারকিউলিস উড়োজাহাজ, যার কল সাইন ছিল ‘এজেএক্স-১৪১৩’

সাধারণ নিয়মে উড্ডয়নের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগলেও, ওই বিমান মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ট্যাক্সি ক্লিয়ারেন্স ও উড্ডয়নের অনুমতি পায়। বিমান বাহিনীর ভাষায়, এমন জরুরি উড্ডয়নকে ‘স্ক্রাম্বল’ বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ ফ্লাইং ইউনিট (এসএফইউ) এই উড্ডয়ন পরিচালনা করে।

আরও দাবি করা হয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে সেটিকে ট্র্যাক করা না যায়। ভারতের সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর আবার ট্রান্সপন্ডার চালু করা হয়। এছাড়া, প্রচলিত রুটের পরিবর্তে সাতক্ষীরা হয়ে বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ত্যাগ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ভারত গমনের ক্ষেত্রে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, কূটনৈতিক ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

আইনজ্ঞদের অভিমত, এ বিষয়ে আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।