ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬ ইরানের সামরিক নীতি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা আইআরজিসির জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে  কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী

হঠাৎ করেই মেয়ে হয়ে গেল ছেলে, এলাকায় চাঞ্চল্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় এক তরুণের শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে নারী হিসেবে বেড়ে ওঠা কেয়া আক্তার এখন পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। ইতোমধ্যে তার নাম পরিবর্তন করে কাবির রাখা হয়েছে এবং জন্মনিবন্ধনও সংশোধন করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই কাবিরকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

পরিবার জানায়, কামরাঙ্গীরচালা গ্রামের বাসিন্দা কেয়া আক্তার স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ২০২৫ সাল থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, এটি হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পরবর্তীতে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ায় তিনি পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।

কাবিরের মা কনিকা ইসলাম বলেন, মেয়ের বিয়ের কথা বললেই তিনি আপত্তি করতেন। পরে পরিবারের কাছে নিজের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানান। এরপর চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। সেই অনুযায়ী সম্প্রতি তার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।

কাবির বলেন, ২০২৫ সাল থেকেই তিনি নিজের শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি পরিবারকে জানান। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত মাসিক হলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং শরীরে পুরুষের বৈশিষ্ট্য তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করছেন।

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, কাবির তাদের স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এতদিন সবাই তাকে মেয়ে হিসেবেই চিনতেন। পরে পরিবারের কাছ থেকে শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরিবারও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ অনুসরণ করছে।

পরিবারের আশা, সমাজের কৌতূহলের পরিবর্তে সবাই বিষয়টিকে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা

হঠাৎ করেই মেয়ে হয়ে গেল ছেলে, এলাকায় চাঞ্চল্য

আপডেট সময় ০৩:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় এক তরুণের শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে নারী হিসেবে বেড়ে ওঠা কেয়া আক্তার এখন পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। ইতোমধ্যে তার নাম পরিবর্তন করে কাবির রাখা হয়েছে এবং জন্মনিবন্ধনও সংশোধন করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই কাবিরকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

পরিবার জানায়, কামরাঙ্গীরচালা গ্রামের বাসিন্দা কেয়া আক্তার স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ২০২৫ সাল থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, এটি হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পরবর্তীতে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ায় তিনি পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।

কাবিরের মা কনিকা ইসলাম বলেন, মেয়ের বিয়ের কথা বললেই তিনি আপত্তি করতেন। পরে পরিবারের কাছে নিজের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানান। এরপর চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। সেই অনুযায়ী সম্প্রতি তার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।

কাবির বলেন, ২০২৫ সাল থেকেই তিনি নিজের শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি পরিবারকে জানান। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত মাসিক হলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং শরীরে পুরুষের বৈশিষ্ট্য তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করছেন।

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, কাবির তাদের স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এতদিন সবাই তাকে মেয়ে হিসেবেই চিনতেন। পরে পরিবারের কাছ থেকে শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরিবারও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ অনুসরণ করছে।

পরিবারের আশা, সমাজের কৌতূহলের পরিবর্তে সবাই বিষয়টিকে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবেন।