প্রায় তিন বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা ছিল মরদেহ। অবশেষে উদ্ধার হলো ১১২ ফিলিস্তিনির লাশ। গাজা শহরে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে গণ-জানাজার মাধ্যমে তাদের দাফন করা হয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিকে অন্যতম বৃহৎ গণ-জানাজা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর ইসরায়েলি হামলায় নিহত আবু শরিয়া ও আল-হাসায়না পরিবারের সদস্যদের মরদেহ সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার ১১২ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুই পরিবারের মোট ৩০৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন অন্তত ৪০ শিশু, ৩০ নারী এবং সাতজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তবে এখনো প্রায় ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
দাফনের সময় ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো সারি সারি কফিন গাজা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোকাহত স্বজনরা নিহতদের ছবি হাতে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, এটি চলমান যুদ্ধের সময় অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় গণ-জানাজার অন্যতম। আর ফিলিস্তিনি জাতীয় উদ্যোগের মহাসচিব মুস্তফা বারঘুতি একে ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের চেয়ারম্যান রামি আবদুর ভাষ্য, শুধু আবু শরিয়া পরিবারেরই প্রায় ২০০ সদস্যের দেহাবশেষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারে গতি বাড়ানো, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং গাজার পুনর্গঠনে আরও কার্যকর সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























