ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইসরাইলে গৃহযুদ্ধের ‘বাস্তব’ আশঙ্কা দেখছেন ৬০ শতাংশ নাগরিক বেতনের ১০ শতাংশ গরীবদের জন্য সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ’—বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন রোনালদো খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হচ্ছে কেন? লাল কার্ড দেখার পরও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়, ফিফাকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের ‘ফিলিস্তিনের সমর্থনের কারণেই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীনকেও কাছে টানছে বাংলাদেশ ইরানি নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে রাত: হালান্ড ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করল ব্রাজিল

নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে রাত: হালান্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

আর্লিং হলান্ডের সামনে সুযোগ মানেই যেন গোল। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যখন দুই দলের খেলোয়াড়রাই একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিলেন, তখন পাওয়া দুটি সুযোগই কাজে লাগিয়ে জোড়া গোল করেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। ম্যাচ শেষে নিজের গোল করার সহজাত দক্ষতা নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘সাধারণত এমনই হয়। আমি যদি একটি বা দুটি সুযোগ পাই, সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে করি, সেটা আমি নিজেও ঠিক জানি না। তবে সবকিছুর মূল হলো মনোযোগ ধরে রাখা। সুযোগ এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়।

এই জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলোতে ওঠা। এরপর টানা ছয়টি বিশ্বকাপ তারা দর্শক হিসেবেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সরাসরি শেষ আটে উঠে ইতিহাস গড়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। এই অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে হালান্ড বলেন, ‘আমার মনে হয়, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে এবং অবিশ্বাস্য রাতগুলোর একটি। আমি আশা করি, এই জয় আমাদের ফুটবলে অনেক পরিবর্তনের সূচনা করবে।

ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতির প্রশংসাও করেন তিনি। হালান্ডের ভাষায়, ‘আমরা ব্রাজিলের কাছ থেকে শিখতে পারি। হয়তো তাদের মতো হুবহু নয়, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার যে গর্ব তারা অনুভব করে, সেটি আমাদের মধ্যেও থাকা উচিত। নরওয়ের প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন হওয়া উচিত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।’  দলের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন এই স্ট্রাইকার। তিনি বলেন, ‘আমরা ভয়ডর ভুলে বুক চিতিয়ে খেলেছি এবং মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। যারা এই সাক্ষাৎকার দেখছ, আশা করি বড় হয়ে তোমরাও নরওয়ের হয়ে খেলতে চাইবে এবং এটিকে জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব হিসেবে দেখবে। এই মুহূর্ত সত্যিই অবিশ্বাস্য।’  

বিশ্বকাপে এবার নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পরই সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহীভাইকিংউদযাপনে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ব্রাজিলকে হারানোর পরও গ্যালারিতে দীর্ঘ সময় ধরে হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গেয়েছেন সমর্থকেরা। দেশের মানুষের সেই আনন্দের অংশ হতে না পারার আক্ষেপও ঝরেছে হালান্ডের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘ইশ, যদি এখন দেশের রাস্তায় সমর্থকদের সঙ্গে থাকতে পারতাম! আমিও যদি সেই আনন্দে শামিল হতে পারতাম। সবাইকে বলব, এই মুহূর্তটা প্রাণভরে উপভোগ করুন। পুরো নরওয়েরই এখন উদযাপন করার সময়। আমার বিশ্বাস, এটি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলে গৃহযুদ্ধের ‘বাস্তব’ আশঙ্কা দেখছেন ৬০ শতাংশ নাগরিক

নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে রাত: হালান্ড

আপডেট সময় ০২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

আর্লিং হলান্ডের সামনে সুযোগ মানেই যেন গোল। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যখন দুই দলের খেলোয়াড়রাই একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিলেন, তখন পাওয়া দুটি সুযোগই কাজে লাগিয়ে জোড়া গোল করেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। ম্যাচ শেষে নিজের গোল করার সহজাত দক্ষতা নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘সাধারণত এমনই হয়। আমি যদি একটি বা দুটি সুযোগ পাই, সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে করি, সেটা আমি নিজেও ঠিক জানি না। তবে সবকিছুর মূল হলো মনোযোগ ধরে রাখা। সুযোগ এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়।

এই জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলোতে ওঠা। এরপর টানা ছয়টি বিশ্বকাপ তারা দর্শক হিসেবেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সরাসরি শেষ আটে উঠে ইতিহাস গড়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। এই অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে হালান্ড বলেন, ‘আমার মনে হয়, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে এবং অবিশ্বাস্য রাতগুলোর একটি। আমি আশা করি, এই জয় আমাদের ফুটবলে অনেক পরিবর্তনের সূচনা করবে।

ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতির প্রশংসাও করেন তিনি। হালান্ডের ভাষায়, ‘আমরা ব্রাজিলের কাছ থেকে শিখতে পারি। হয়তো তাদের মতো হুবহু নয়, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার যে গর্ব তারা অনুভব করে, সেটি আমাদের মধ্যেও থাকা উচিত। নরওয়ের প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন হওয়া উচিত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।’  দলের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন এই স্ট্রাইকার। তিনি বলেন, ‘আমরা ভয়ডর ভুলে বুক চিতিয়ে খেলেছি এবং মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। যারা এই সাক্ষাৎকার দেখছ, আশা করি বড় হয়ে তোমরাও নরওয়ের হয়ে খেলতে চাইবে এবং এটিকে জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব হিসেবে দেখবে। এই মুহূর্ত সত্যিই অবিশ্বাস্য।’  

বিশ্বকাপে এবার নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পরই সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহীভাইকিংউদযাপনে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ব্রাজিলকে হারানোর পরও গ্যালারিতে দীর্ঘ সময় ধরে হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গেয়েছেন সমর্থকেরা। দেশের মানুষের সেই আনন্দের অংশ হতে না পারার আক্ষেপও ঝরেছে হালান্ডের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘ইশ, যদি এখন দেশের রাস্তায় সমর্থকদের সঙ্গে থাকতে পারতাম! আমিও যদি সেই আনন্দে শামিল হতে পারতাম। সবাইকে বলব, এই মুহূর্তটা প্রাণভরে উপভোগ করুন। পুরো নরওয়েরই এখন উদযাপন করার সময়। আমার বিশ্বাস, এটি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন।