ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সুসংবাদ, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আসেনি বাবা-মা, নিজের বন্ডে নিজেই সই করলেন আহত আলিফ আদালতের নির্দেশে ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা টিফিনের রুটিতে ব্লেড নিয়ে তদন্ত, বরখাস্ত হলেন শিক্ষিকা চোখ হারানো আলিফকে দেখতে যাচ্ছেন এনসিপি নেতারা এবার গোলাপগঞ্জে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের নামে ‘ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি করছে: রাশেদ খাঁন অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের সিজারের ক্ষেত্রে ডাক্তারদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবারও ইসরায়েলি সেনাদের বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশগুলোকেও হুমকি ইরানের

‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রচারণায় টাকা ঢালছে ব্রাজিল’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপের রেশ কাটলেও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মাঠের পারফরম্যান্স, ফাইনালের উত্তেজনা আর রাজনৈতিক অবস্থান; সব মিলিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে লিওনেল মেসিদের দেশ। তবে সেই সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। প্রতিবেদন রয়টার্সের। তার দাবি, আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণার পেছনে রয়েছে ব্রাজিল সরকার, যারা এ কাজে বড় অঙ্কের অর্থও ব্যয় করছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

বিশ্বকাপপরবর্তী সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন মিলেই। ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যে সমালোচনা চলছে, তার পেছনে মূল কারণহিংসা তার অভিযোগ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন সরকারই এই প্রচারণার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা। এক সাক্ষাৎকারে মিলেই বলেন, “আর্জেন্টিনাবিরোধী এই প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি অর্থ কে দিয়েছে? ব্রাজিল সরকার। মোট অর্থায়নের ২৫ শতাংশই এসেছে ব্রাজিল সরকারের কাছ থেকে। এরপর তারাই আবার আমাকে হস্তক্ষেপ নিয়ে শিক্ষা দেয়।

তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। মিলেই আরও অভিযোগ করেন, শুধু ব্রাজিলই নয়, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তার ভাষ্য, “মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এতে অর্থ দিয়েছে। তারা সেই প্রগতিশীল শক্তি, যারা স্বাধীনতার ধারণার সফলতা দেখতে চায় না।বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটি বাড়তি সুবিধা পেয়েছে; এমন অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনি ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের আচরণ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতি মিলেইয়ের প্রকাশ্য সমর্থন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা হচ্ছে। তবে এসব সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিলেই লেখেন, “তোমার যদি শত্রু থাকে, তার মানে তুমি কোনো না কোনো সময় কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছ। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষে দাঁড়াই।আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, “আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা আলাদা করে নজর কাড়ি। আমরা কখনোই চোখ এড়িয়ে যাই না। মানুষ আমাদের হিংসা করে, কারণ আমরা প্রায় সবকিছুতেই ভালো।

এর আগে বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। ফাইনালের আগে হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকেবিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশউল্লেখ করে দেশটির পক্ষে সমর্থন না দেয়ার আহ্বান জানান। পরে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আর্জেন্টিনা শাখা বর্ণবাদের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও পুরো দেশকে এককভাবে বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার সমালোচনা করে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সুসংবাদ, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রচারণায় টাকা ঢালছে ব্রাজিল’

আপডেট সময় ০২:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের রেশ কাটলেও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মাঠের পারফরম্যান্স, ফাইনালের উত্তেজনা আর রাজনৈতিক অবস্থান; সব মিলিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে লিওনেল মেসিদের দেশ। তবে সেই সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। প্রতিবেদন রয়টার্সের। তার দাবি, আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণার পেছনে রয়েছে ব্রাজিল সরকার, যারা এ কাজে বড় অঙ্কের অর্থও ব্যয় করছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

বিশ্বকাপপরবর্তী সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন মিলেই। ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যে সমালোচনা চলছে, তার পেছনে মূল কারণহিংসা তার অভিযোগ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন সরকারই এই প্রচারণার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা। এক সাক্ষাৎকারে মিলেই বলেন, “আর্জেন্টিনাবিরোধী এই প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি অর্থ কে দিয়েছে? ব্রাজিল সরকার। মোট অর্থায়নের ২৫ শতাংশই এসেছে ব্রাজিল সরকারের কাছ থেকে। এরপর তারাই আবার আমাকে হস্তক্ষেপ নিয়ে শিক্ষা দেয়।

তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। মিলেই আরও অভিযোগ করেন, শুধু ব্রাজিলই নয়, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তার ভাষ্য, “মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এতে অর্থ দিয়েছে। তারা সেই প্রগতিশীল শক্তি, যারা স্বাধীনতার ধারণার সফলতা দেখতে চায় না।বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটি বাড়তি সুবিধা পেয়েছে; এমন অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনি ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের আচরণ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতি মিলেইয়ের প্রকাশ্য সমর্থন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা হচ্ছে। তবে এসব সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিলেই লেখেন, “তোমার যদি শত্রু থাকে, তার মানে তুমি কোনো না কোনো সময় কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছ। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষে দাঁড়াই।আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, “আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা আলাদা করে নজর কাড়ি। আমরা কখনোই চোখ এড়িয়ে যাই না। মানুষ আমাদের হিংসা করে, কারণ আমরা প্রায় সবকিছুতেই ভালো।

এর আগে বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। ফাইনালের আগে হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকেবিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশউল্লেখ করে দেশটির পক্ষে সমর্থন না দেয়ার আহ্বান জানান। পরে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আর্জেন্টিনা শাখা বর্ণবাদের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও পুরো দেশকে এককভাবে বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার সমালোচনা করে।