ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লাল কার্ড দেখার পরও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়, ফিফাকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের ‘ফিলিস্তিনের সমর্থনের কারণেই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীনকেও কাছে টানছে বাংলাদেশ ইরানি নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে রাত: হালান্ড ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করল ব্রাজিল ভারত নামে একটি ছোট দেশ ইসরায়েলের বড় সমর্থক: নেতানিয়াহু মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্টে নতুন বিতর্ক, ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ মন্তব্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আমার সঙ্গে চালাকি চলবে না: নরওয়ের গোলকিপারকে নেইমার হালান্ডের রাতের অদ্ভুত অভ্যাস! মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান কেন, জানাল বিজ্ঞান

রোহিঙ্গা যুবক এনআইডি বানিয়ে ‘বাংলাদেশি’, কাজ করছেন সরকারি অধিদপ্তরে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৯৮ বার পড়া হয়েছে

এবার কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের কোনপাড়া বাসিন্দা আলী আহমদকে বাবা ও নুর নাহারকে মা সাজিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল আজিজ। তিনি ২০১৭ সালে এই এনআইডি নেন। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল আজিজ বাংলাদেশি এনআইডি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে চাকরিও করছেন। রয়েছে সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগও।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আজিজ বর্তমানে সেন্টমার্টিন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কর্মী। পাশাপাশি জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের মেরিন পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিজকে এনআইডি তৈরি করতে সহযোগিতা করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রউফ। তবে এনআইডি করতে সহযোগিতা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, ‘কীভাবে আজিজ এনআইডি করেছে, তা আমি জানি না। আমি কোনো সহযোগিতা করিনি। হয়তো টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে এনআইডি করেছে।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল আজিজ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক মো. আব্দুলের ছেলে। ১৯৯২ সালে স্ত্রীকে নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন আব্দুল। ২০০০ সালে তিনি মারা যান। তখন ছেলে আজিজের বয়স ৬ বছর। ২০০১ সালের দিকে আব্দুলের স্ত্রীকে বিয়ে করেন সেন্টমার্টিনের কোনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদ। ২০১৭ সালে আলী আহমদকে বাবা এবং তার স্ত্রী নুর নাহারকে মা দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করেন। ওই বছরই এনআইডি করেন আজিজ।

এনআইডিতে জন্মসাল উল্লেখ করেছেন ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি; অর্থাৎ যে বছর তার বাবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। প্রকৃতপক্ষে সেটি তার বয়স নয় এবং আলী আহমদ বাবা নন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলী আহমদ বলেন, ‘আজিজের বাবা আব্দুল মারা যাওয়ার এক বছর পর ২০০১ সালে তার মা নুর নাহারকে আমি বিয়ে করি। তখন আজিজের বয়স সাত বছর হবে। আজিজ আমার ছেলে নয়, মূলত মিয়ানমারের নাগরিক আব্দুলের ছেলে। দালাল চক্রের সঙ্গে মিলে আমাকে বাবা বানিয়ে এনআইডি করেছে বলে শুনেছি। তবে কারা কীভাবে করে দিয়েছে, সেটি আমি জানি না।’

সেন্টমার্টিনের কোনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসেম বলেন, ‘আজিজ রোহিঙ্গা নাগরিক। কিন্তু সে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এনআইডি বানিয়ে এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লাল কার্ড দেখার পরও খেলবেন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়, ফিফাকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের

রোহিঙ্গা যুবক এনআইডি বানিয়ে ‘বাংলাদেশি’, কাজ করছেন সরকারি অধিদপ্তরে

আপডেট সময় ০৪:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

এবার কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের কোনপাড়া বাসিন্দা আলী আহমদকে বাবা ও নুর নাহারকে মা সাজিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল আজিজ। তিনি ২০১৭ সালে এই এনআইডি নেন। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল আজিজ বাংলাদেশি এনআইডি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে চাকরিও করছেন। রয়েছে সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগও।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আজিজ বর্তমানে সেন্টমার্টিন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কর্মী। পাশাপাশি জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের মেরিন পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিজকে এনআইডি তৈরি করতে সহযোগিতা করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রউফ। তবে এনআইডি করতে সহযোগিতা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, ‘কীভাবে আজিজ এনআইডি করেছে, তা আমি জানি না। আমি কোনো সহযোগিতা করিনি। হয়তো টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে এনআইডি করেছে।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল আজিজ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক মো. আব্দুলের ছেলে। ১৯৯২ সালে স্ত্রীকে নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন আব্দুল। ২০০০ সালে তিনি মারা যান। তখন ছেলে আজিজের বয়স ৬ বছর। ২০০১ সালের দিকে আব্দুলের স্ত্রীকে বিয়ে করেন সেন্টমার্টিনের কোনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদ। ২০১৭ সালে আলী আহমদকে বাবা এবং তার স্ত্রী নুর নাহারকে মা দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করেন। ওই বছরই এনআইডি করেন আজিজ।

এনআইডিতে জন্মসাল উল্লেখ করেছেন ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি; অর্থাৎ যে বছর তার বাবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। প্রকৃতপক্ষে সেটি তার বয়স নয় এবং আলী আহমদ বাবা নন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলী আহমদ বলেন, ‘আজিজের বাবা আব্দুল মারা যাওয়ার এক বছর পর ২০০১ সালে তার মা নুর নাহারকে আমি বিয়ে করি। তখন আজিজের বয়স সাত বছর হবে। আজিজ আমার ছেলে নয়, মূলত মিয়ানমারের নাগরিক আব্দুলের ছেলে। দালাল চক্রের সঙ্গে মিলে আমাকে বাবা বানিয়ে এনআইডি করেছে বলে শুনেছি। তবে কারা কীভাবে করে দিয়েছে, সেটি আমি জানি না।’

সেন্টমার্টিনের কোনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসেম বলেন, ‘আজিজ রোহিঙ্গা নাগরিক। কিন্তু সে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এনআইডি বানিয়ে এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে।’