ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের যুবদল নেতা নয়নের ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা’ স্লোগানের প্রতিবাদ জামায়াতের পাকিস্তানের ‘স্বৈরাচারীদের’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের বাবার কষ্টের দিন শেষ করার স্বপ্ন, নিয়োগের আগেই থামল সোহানের পথ কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন: ধর্মমন্ত্রী এবার মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরাল ইরান একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জোরালো আহ্বান বর্তমান সরকার যুবকদের লুটতরাজের জন্য দলীয় ক্যাডার বানাচ্ছে: সাবেক শিবির সভাপতি

মঞ্জু ভাই টাচ করে কথা বলা পছন্দ করতেন, শোল্ডার- হাতে ধরতো: বিস্ফোরক মন্তব্য সাবেক অধিনায়কের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭০২ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে চলমান বিতর্ক ও অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করলেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে অস্বস্তিকর আচরণ, টাচ-সম্পর্কিত সমস্যা, অপমান এবং সিনিয়রদের প্রতি অশ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিরই সঠিক সমাধান দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুমানা বলেন, ‘মঞ্জু ভাই টাচ করে কথা বলা পছন্দ করতেন। ইনফ্যাক্ট শোল্ডার ধরতো, পেছন থেকে এসে দুই হাতে ধরে কথা বলতো। কোনটা গুড টাচ, কোনটা ব্যাড টাচ—এইটুকুনি বোঝার মতো ক্ষমতা মেয়েদের অবশ্যই আছে।’ জাহানারার সাম্প্রতিক অভিযোগ সম্পর্কে রোমানা বলেন, “ইন্টারভিউ দেখার পর খুব খারাপ লেগেছে, গিল্টি ফিল করেছি। আসলে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই একটা ‘স্পিচলেস’ স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। আমি ২০২৩ সাল থেকেই বলে আসছি, টিমের মধ্যে এরকম কিছু একটা ঘটতে চলেছে, এবং ঘটছে।”

রোমানা আরো বলেন, ‘একজন মেয়ে এভাবে কান্নাকাটি করে অভিযোগ করা কোন হালকা ব্যাপার না। সবকিছু তো অবশ্যই মাঠের মধ্যে প্রকাশ্যে করবে না।’ তিনি স্বচক্ষে সব দেখেননি জানিয়ে তিনি মঞ্জুরুলের বাজে আচরণ ও বাজে স্পর্শের কথাও তুলে ধরেন। রুমানা নিশ্চিত করেন, জিম্বাবুয়ে সফরে বড় ধরনের বিরোধের পর জাহানারা বিসিবিতে একটি ৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই অভিযোগের পর উল্টো ওর বিপক্ষে তা ব্যবহার হয়। অভিযোগপত্র ফেরত দেওয়া হয়, উল্টো নানা ইস্যুতে তাকে জড়ানো হয়।

রুমানা দাবি করেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রুমানা দাবি করেন, ‘আমাদের সিইও-র কাছেও এসব জানানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদন্ত হয়নি। মিডিয়া জানত, দেশের সবাই জানত—কিন্তু বিসিবি জানত না, এটা হতে পারে না।’ রুমানা জানান, শুধু খেলোয়াড় নয়, মঞ্জু ভাইকে নিয়ে অফিসিয়ালদের মধ্যেও ‘ভীতি’র পরিবেশ ছিল। তিনি ‘এমন আচরণ করতেন যেন আমরা যেন গরু-ছাগল। মাঠের বাইরে, ভেতরে সব জায়গায় একটা ভয় কাজ করত।’

সাবেক অধিনায়ক রুমানা নিজের ক্যারিয়ার শেষে যেভাবে দল থেকে বাদ পড়েছেন, তা নিয়েও কথা বলেছেন, ‘মঞ্জু ভাই বলেছিলেন আমার পারফরম্যান্স ঠিক আছে, কিন্তু অজুহাত দেওয়া হলো ফিটনেস। একজন পারফর্মার কি করে আনফিট হয়? আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কালার করে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি টানা চার বছর অধিনায়ক ছিলাম। একটু মূল্যায়ন পাওয়ার কথা ছিল। কেউ কিছু জিজ্ঞেসই করেনি।’ শেষে রুমানা আহ্বান জানান, ‘জাহানারা বলেছে, আমি বলেছি—এগুলো শোনার সময় এসেছে। আমরা সিনিয়ররা না বললে জুনিয়ররা চিরদিন চুপ থাকবে। এই বিষয়গুলো এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দেখছে। বোর্ড যদি আগেই ব্যবস্থা নিত, আজ এতদূর যেত না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

মঞ্জু ভাই টাচ করে কথা বলা পছন্দ করতেন, শোল্ডার- হাতে ধরতো: বিস্ফোরক মন্তব্য সাবেক অধিনায়কের

আপডেট সময় ০৩:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

এবার বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে চলমান বিতর্ক ও অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করলেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে অস্বস্তিকর আচরণ, টাচ-সম্পর্কিত সমস্যা, অপমান এবং সিনিয়রদের প্রতি অশ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিরই সঠিক সমাধান দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুমানা বলেন, ‘মঞ্জু ভাই টাচ করে কথা বলা পছন্দ করতেন। ইনফ্যাক্ট শোল্ডার ধরতো, পেছন থেকে এসে দুই হাতে ধরে কথা বলতো। কোনটা গুড টাচ, কোনটা ব্যাড টাচ—এইটুকুনি বোঝার মতো ক্ষমতা মেয়েদের অবশ্যই আছে।’ জাহানারার সাম্প্রতিক অভিযোগ সম্পর্কে রোমানা বলেন, “ইন্টারভিউ দেখার পর খুব খারাপ লেগেছে, গিল্টি ফিল করেছি। আসলে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই একটা ‘স্পিচলেস’ স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। আমি ২০২৩ সাল থেকেই বলে আসছি, টিমের মধ্যে এরকম কিছু একটা ঘটতে চলেছে, এবং ঘটছে।”

রোমানা আরো বলেন, ‘একজন মেয়ে এভাবে কান্নাকাটি করে অভিযোগ করা কোন হালকা ব্যাপার না। সবকিছু তো অবশ্যই মাঠের মধ্যে প্রকাশ্যে করবে না।’ তিনি স্বচক্ষে সব দেখেননি জানিয়ে তিনি মঞ্জুরুলের বাজে আচরণ ও বাজে স্পর্শের কথাও তুলে ধরেন। রুমানা নিশ্চিত করেন, জিম্বাবুয়ে সফরে বড় ধরনের বিরোধের পর জাহানারা বিসিবিতে একটি ৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই অভিযোগের পর উল্টো ওর বিপক্ষে তা ব্যবহার হয়। অভিযোগপত্র ফেরত দেওয়া হয়, উল্টো নানা ইস্যুতে তাকে জড়ানো হয়।

রুমানা দাবি করেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রুমানা দাবি করেন, ‘আমাদের সিইও-র কাছেও এসব জানানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদন্ত হয়নি। মিডিয়া জানত, দেশের সবাই জানত—কিন্তু বিসিবি জানত না, এটা হতে পারে না।’ রুমানা জানান, শুধু খেলোয়াড় নয়, মঞ্জু ভাইকে নিয়ে অফিসিয়ালদের মধ্যেও ‘ভীতি’র পরিবেশ ছিল। তিনি ‘এমন আচরণ করতেন যেন আমরা যেন গরু-ছাগল। মাঠের বাইরে, ভেতরে সব জায়গায় একটা ভয় কাজ করত।’

সাবেক অধিনায়ক রুমানা নিজের ক্যারিয়ার শেষে যেভাবে দল থেকে বাদ পড়েছেন, তা নিয়েও কথা বলেছেন, ‘মঞ্জু ভাই বলেছিলেন আমার পারফরম্যান্স ঠিক আছে, কিন্তু অজুহাত দেওয়া হলো ফিটনেস। একজন পারফর্মার কি করে আনফিট হয়? আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কালার করে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি টানা চার বছর অধিনায়ক ছিলাম। একটু মূল্যায়ন পাওয়ার কথা ছিল। কেউ কিছু জিজ্ঞেসই করেনি।’ শেষে রুমানা আহ্বান জানান, ‘জাহানারা বলেছে, আমি বলেছি—এগুলো শোনার সময় এসেছে। আমরা সিনিয়ররা না বললে জুনিয়ররা চিরদিন চুপ থাকবে। এই বিষয়গুলো এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দেখছে। বোর্ড যদি আগেই ব্যবস্থা নিত, আজ এতদূর যেত না।’