ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদের আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংসদে হট্টগোল মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও যাবজ্জীবন দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ‘মুরগি’ বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন, যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতকরা পঞ্চাশ বছর পর যশোরে পাশাপাশি বাবা-ছেলের নামফলক মার্কিন নৌ-অবরোধ তোয়াক্কা না করে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল বাইরে পাঠালো ইরান: ডন

আজ আওয়ামী দোসরদের নিয়ে জাতীয় পার্টির নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৮৩ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় পার্টির একাধিক অংশসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন জোট হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি পার্টি সেন্টারে নতুন এই জোটের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জোটের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জোটের উদ্যোক্তা হচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জিএম কাদের) নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এখনো এই জোট গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি।

এই জোটের বেশিরভাগ দলই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী। শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন কেউ কেউ। স্বৈরাচার এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিল এ দলটি। ওই তিন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকারের সঙ্গীও ছিল জাপা। জেপি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটেরও শরিক।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই জিএম কাদের জাতীয় পার্টির সভাপতি হন। এ সময় রওশন এরশাদের নেতৃত্বে অপর একটি অংশ আলাদা কমিটি গঠন করে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনার পতনের বছরখানেকের মাথায় জিএম কাদের তার অংশের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুসহ দলের প্রভাবশালী বেশ কজনকে দল থেকে অব্যাহতি দেন। চুন্নুকে বাদ দিয়ে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করা হয়। এদিকে অব্যাহতি পাওয়া শীর্ষ নেতারা কাউন্সিল করে জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি গঠন করেন। এ অংশের সভাপতি হন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব নির্বাচিত হন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির একাধিক অংশের নেতাদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নতুন জোট গঠন হচ্ছে।

জাতীয় পার্টি (আনিস), জাতীয় পার্টি (রওশন) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ছাড়াও এই জোটে আরো যেসব দল যুক্ত হতে পারে, সেগুলো হলো- জনতা পার্টি, মুসলিম লীগের একাংশ, এনপিপির একাংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশ, বাংলাদেশ ইসলামিক জোট, জাতীয় সংস্কার জোট, মানবাধিকার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশ, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, পিস অ্যালায়েন্স, ন্যাপ ভাসানীর একাংশ, বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক জোট বাংলাদেশ। এছাড়াও জাতীয় পার্টির আরো দু-একটি খণ্ডিত অংশও এই জোটে রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে নতুন এই জোটে আরো কয়েকটি দল সম্পৃক্ত হতে পারে।

অবশ্য জাতীয় পার্টি ও জেপি ছাড়া অন্য দলগুলো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও খুব একটা পরিচিত নয়। জোট গঠন প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোর সমন্বয়ে এই জোট গঠন হতে যাচ্ছে। কতগুলো দল এই জোটে যুক্ত হবে- সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনেকের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে।আজ জোটের আত্মপ্রকাশ হবে। আমরা এই জোটকে আরো সম্প্রসারণ করব। তবে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এই জোটের সঙ্গে নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আজ আওয়ামী দোসরদের নিয়ে জাতীয় পার্টির নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ

আপডেট সময় ১০:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার জাতীয় পার্টির একাধিক অংশসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন জোট হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি পার্টি সেন্টারে নতুন এই জোটের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জোটের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জোটের উদ্যোক্তা হচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জিএম কাদের) নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এখনো এই জোট গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি।

এই জোটের বেশিরভাগ দলই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী। শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন কেউ কেউ। স্বৈরাচার এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিল এ দলটি। ওই তিন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকারের সঙ্গীও ছিল জাপা। জেপি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটেরও শরিক।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই জিএম কাদের জাতীয় পার্টির সভাপতি হন। এ সময় রওশন এরশাদের নেতৃত্বে অপর একটি অংশ আলাদা কমিটি গঠন করে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনার পতনের বছরখানেকের মাথায় জিএম কাদের তার অংশের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুসহ দলের প্রভাবশালী বেশ কজনকে দল থেকে অব্যাহতি দেন। চুন্নুকে বাদ দিয়ে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করা হয়। এদিকে অব্যাহতি পাওয়া শীর্ষ নেতারা কাউন্সিল করে জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি গঠন করেন। এ অংশের সভাপতি হন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব নির্বাচিত হন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির একাধিক অংশের নেতাদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নতুন জোট গঠন হচ্ছে।

জাতীয় পার্টি (আনিস), জাতীয় পার্টি (রওশন) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ছাড়াও এই জোটে আরো যেসব দল যুক্ত হতে পারে, সেগুলো হলো- জনতা পার্টি, মুসলিম লীগের একাংশ, এনপিপির একাংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশ, বাংলাদেশ ইসলামিক জোট, জাতীয় সংস্কার জোট, মানবাধিকার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশ, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, পিস অ্যালায়েন্স, ন্যাপ ভাসানীর একাংশ, বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক জোট বাংলাদেশ। এছাড়াও জাতীয় পার্টির আরো দু-একটি খণ্ডিত অংশও এই জোটে রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে নতুন এই জোটে আরো কয়েকটি দল সম্পৃক্ত হতে পারে।

অবশ্য জাতীয় পার্টি ও জেপি ছাড়া অন্য দলগুলো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও খুব একটা পরিচিত নয়। জোট গঠন প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোর সমন্বয়ে এই জোট গঠন হতে যাচ্ছে। কতগুলো দল এই জোটে যুক্ত হবে- সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনেকের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে।আজ জোটের আত্মপ্রকাশ হবে। আমরা এই জোটকে আরো সম্প্রসারণ করব। তবে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এই জোটের সঙ্গে নেই।