ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মিরপুরে দেয়াল ধসে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনার পতন ছাত্রদল আর যুবদলই নিয়ে আসবে—প্রধানমন্ত্রীকে শিবির সভাপতি পুলিশের উপস্থিতিতেই নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ আসিফ মাহমুদের নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদের হাসপাতালে নেয়ার সময়ও হামলাকারীরা থামেনি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড দিবো: নারীকে কুপ্রস্তাব বিএনপি নেতার টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত মানুষ, যা বললো বিএসটিআই আয়রনম্যান ৭০.৩ সম্পন্ন করলেন স্নিগ্ধ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ

‘পুলিশ হত্যা করেছি’ ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:১৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ২৬২ বার পড়া হয়েছে

বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছিবলে থানায় ওসির সামনে বসে হুমকি দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহদী হাসান। পাঁচ মাসের মাথায় সেই মাহদীই নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানা পুলিশের কাছে। ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছে অভিযোগ করে মাহদী আজ বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতংকে কাঁপছেন। প্রাণ বাঁচাতে আরেক জনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানান।

   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান লাইভে দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে মাহদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পার্সোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পার্সোনাল অধিকার নাই?’ লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।

মাহদী হাসানের দাবি, তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।  এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন মাহদী হাসান। তাকে দম্ভ নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন মাহাদী হাসান। 

এ ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে দেয়াল ধসে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘পুলিশ হত্যা করেছি’ ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানায়

আপডেট সময় ০৪:১৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছিবলে থানায় ওসির সামনে বসে হুমকি দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহদী হাসান। পাঁচ মাসের মাথায় সেই মাহদীই নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানা পুলিশের কাছে। ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছে অভিযোগ করে মাহদী আজ বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতংকে কাঁপছেন। প্রাণ বাঁচাতে আরেক জনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানান।

   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান লাইভে দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে মাহদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পার্সোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পার্সোনাল অধিকার নাই?’ লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।

মাহদী হাসানের দাবি, তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।  এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন মাহদী হাসান। তাকে দম্ভ নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন মাহাদী হাসান। 

এ ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।