ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ খান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

এবার গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় এনসিপির উত্থান জরুরি ছিল। কিন্তু জুলাই পদযাত্রায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এনসিপির ডাউন হয়েছে। শীর্ষ নেতারা পদযাত্রায় অংশগ্রহণের পরেও সাধারণ মানুষের সেই বিপুল আগ্রহউদ্দীপনা আর নাই।শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সাভারে এনসিপির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের পরে ঢাকায় বড় কোনো প্রতিবাদ হয়নি। বরং ইসহাক সরকারের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদী মিছিল হয়েছে, সেখানে ২০২৫ জন লোক হয়েছে! তিনি একটা বোমা ফাটলে ১০টা বোমা ফাটানোর আওয়াজ দিলেও মানুষ সেই আওয়াজে কর্ণপাত করে নাই। অথচ একসময় ইসহাক সরকার ডাক দিলে যেকোনো সময় ৩৪ হাজার লোক নেমে এসেছে।

রাশেদ খান বলেন, ‘মূলত এনসিপি জামায়াতের সাথে যাওয়াতে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত পুরাতন জামায়াতের দখলে চলে গেছে। মানুষের ধারণা এনসিপির জামায়াতের আরেকটা অঙ্গসংগঠন। শিবির ও জামায়াতের লোকজন দিয়ে এনসিপিকে বড় করার প্রজেক্টও সাধারণ মানুষে কাছে খোলাসা হয়ে গেছে। যে কারণে জামায়াতশিবির আর এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না। তারা এখন নিজেদের দিকেই ফোকাস দিচ্ছে বলে আমার ধারণা।তিনি বলেন, ‘এনসিপিই যদি জামায়াত হয়, তবে মানুষ কেন জামায়াতে বাদ দিয়ে এনসিপি করবে? সুতরাং এনসিপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে যে, আমরা আসলেই নতুন বন্দোবস্তের দল।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘কিন্তু শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একটি অংশ জামায়াতের ভোটে এমপি হয়ে হওয়ায়, তারা কি কখনো জামায়াত থেকে এনসিপিকে বের করতে চাইবে? যদি না চায়, তবে এ যাত্রায় নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ। আর এ আশা যতো ফুরিয়ে যাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ততো প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসার উঁকিঝুঁকি মারবে! যা জাতির জন্য অশনিসংকেত! তবে এক্ষেত্রে অনেকে মনে করতে পারে, জামায়াত তো আছে।

সত্যি বলতে, জামায়াত কখনো পুরোপুরি সরকারি দল বা পুরোপুরি বিরোধীদল হওয়ার ঝুঁকি নিবে না। জামায়াত তার সক্ষমতা বুঝে ফেলেছে। স্বাধীনতা না চেয়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ঝুঁকি নেওয়া যায় না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ খান

আপডেট সময় ০৩:০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

এবার গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় এনসিপির উত্থান জরুরি ছিল। কিন্তু জুলাই পদযাত্রায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এনসিপির ডাউন হয়েছে। শীর্ষ নেতারা পদযাত্রায় অংশগ্রহণের পরেও সাধারণ মানুষের সেই বিপুল আগ্রহউদ্দীপনা আর নাই।শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সাভারে এনসিপির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের পরে ঢাকায় বড় কোনো প্রতিবাদ হয়নি। বরং ইসহাক সরকারের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদী মিছিল হয়েছে, সেখানে ২০২৫ জন লোক হয়েছে! তিনি একটা বোমা ফাটলে ১০টা বোমা ফাটানোর আওয়াজ দিলেও মানুষ সেই আওয়াজে কর্ণপাত করে নাই। অথচ একসময় ইসহাক সরকার ডাক দিলে যেকোনো সময় ৩৪ হাজার লোক নেমে এসেছে।

রাশেদ খান বলেন, ‘মূলত এনসিপি জামায়াতের সাথে যাওয়াতে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত পুরাতন জামায়াতের দখলে চলে গেছে। মানুষের ধারণা এনসিপির জামায়াতের আরেকটা অঙ্গসংগঠন। শিবির ও জামায়াতের লোকজন দিয়ে এনসিপিকে বড় করার প্রজেক্টও সাধারণ মানুষে কাছে খোলাসা হয়ে গেছে। যে কারণে জামায়াতশিবির আর এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না। তারা এখন নিজেদের দিকেই ফোকাস দিচ্ছে বলে আমার ধারণা।তিনি বলেন, ‘এনসিপিই যদি জামায়াত হয়, তবে মানুষ কেন জামায়াতে বাদ দিয়ে এনসিপি করবে? সুতরাং এনসিপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে যে, আমরা আসলেই নতুন বন্দোবস্তের দল।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘কিন্তু শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একটি অংশ জামায়াতের ভোটে এমপি হয়ে হওয়ায়, তারা কি কখনো জামায়াত থেকে এনসিপিকে বের করতে চাইবে? যদি না চায়, তবে এ যাত্রায় নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ। আর এ আশা যতো ফুরিয়ে যাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ততো প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসার উঁকিঝুঁকি মারবে! যা জাতির জন্য অশনিসংকেত! তবে এক্ষেত্রে অনেকে মনে করতে পারে, জামায়াত তো আছে।

সত্যি বলতে, জামায়াত কখনো পুরোপুরি সরকারি দল বা পুরোপুরি বিরোধীদল হওয়ার ঝুঁকি নিবে না। জামায়াত তার সক্ষমতা বুঝে ফেলেছে। স্বাধীনতা না চেয়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ঝুঁকি নেওয়া যায় না।