ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুলাই নিয়ে নিলুফারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ছাত্রদল সভাপতির এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ঐতিহাসিক কারবালায় জুলাই নিয়ে পোস্টে সমালোচনাকারীদের কটাক্ষ করলেন শাওন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ চাই না: চিফ হুইপ ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, সে হারে কি বাংলাদেশে মন্দির ভাঙা হয়: প্রশ্ন চিফ হুইপের ৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত সাভারে আর্জেন্টিনার কিশোর সমর্থককে হত্যা করল ব্রাজিল সমর্থকরা শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীই যেন হিংস্রতার শিকার না হয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে কারো হস্তক্ষেপ মানবে না চীন: রাষ্ট্রদূত

জামায়াত মুক্তিযোদ্ধা হলেও সমর্থন করতাম না, ইসলামী দলের রাজনীতি সমর্থন করি না: জাহেদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮৬১ বার পড়া হয়েছে

এবার জামায়াত মুক্তিযোদ্ধা হলেও সমর্থন করতাম না বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় জামায়াতকে সমর্থন না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কিংবা ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ে যখনই আমি কথা বলি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রতি আমার সমালোচনা থাকে, বিরোধিতা থাকে, খুব কমন কতগুলো মন্তব্য থাকে, প্রচুর গালিগালাজ থাকে। অনেকে জানতে চান যে আমি কেন তাদের সমর্থন করি না? তারা এত ভালো, কেন তারপরও সমর্থন করছি না? তো আমি এই প্রশ্নটার একটু জবাব দেওয়া দরকার বলে মনে করি।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের একটা ভূমিকা আছে। আমরা ধরে নিই জামায়াতে ইসলামী ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেনি। তারা পাকিস্তানের পক্ষে থাকেনি। ধরে নিলাম তারা মুক্তিযুদ্ধই করেছে। তারপরও আজকে জামায়াতে ইসলামের যে রাজনীতি সেটাকে আমি সমর্থন করতাম কিনা? উত্তর হচ্ছে না। আরেকটু বলি, জামায়াতের প্রতি আসলে আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। কিন্তু আমি জামায়াতের রাজনীতি বা যেকোনো ইসলামী দলের রাজনীতি সমর্থন করি না।’ ‘যখন আপনি ভালো আছেন বলে আপনি ঘাড় ধরে আমাকে ভালোটা মানাতে চাইবেন, এটা ফ্যাসিবাদ।

তার চিন্তা, তার প্ল্যান, তার কর্মসূচি ইজ দ্য বেস্ট। তার মানে কি এই যে, সেটা আমাকে মানতে হবে? ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরির পর আমাকে নিয়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন। মানে একটা দল কোনো একটা প্রেক্ষাপটে জিতে যাওয়া মানে সেটা সবসময় সঠিক জায়গায় আছে তা না। গণতন্ত্র বহু সময় ভুল মানুষকে চুজ করায়। এখনকার গ্লোবাল ট্রেন্ডটাও ওইদিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ফর্মের আইডেন্টিটি পলিটিক্স আমি স্ট্রংলি ডিনাউন্স করি। একেবারে আমি কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না। আমাদের জামায়াতে ইসলামী একটা ধর্মভিত্তিক আইডেন্টিটি পলিটিক্স করছে। তারা ইসলাম এবং শরীয়াহ আইন কায়েম করবেন বলেছেন। ইসলাম ধর্ম আর ইসলামিজম এক জিনিস না। আমরা যখন আইডেন্টিটিকে একটা ভিত্তি হিসেবে ধরি, তখন আরো নতুন নতুন আইডেন্টিটি এসে উদয় হয়। একটা উদাহরণ দিই। আমরা ৪৭-এ দেশভাগ করেছিলাম। আমাদের সামনে বলা হলো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হবে যেখানে মুসলিম মেজরিটি পাকিস্তান হবে। কিন্তু কিছুদিনের পরই দেখা গেল দুই পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলো।’

‘ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামের শত্রু বলে মনে করে। হেফাজতে ইসলামের আমির বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে থাকলে ঈমান থাকবে না। তার মানে জামায়াতের সঙ্গ মানে আমরা ঈমানহারা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তার মানে ইসলামের মধ্যেও ডিফারেন্ট ইন্টারপ্রিটেশনস আছে এবং দল উপদল তৈরি হতে থাকে। সংকটের জায়গা কিন্তু এখানেই। একটার পর একটা আইডেন্টিটি বাড়তে থাকে এবং এটা মানুষের মধ্যে ক্রমাগত প্রবলেম তৈরি করতে থাকে।’

‘কিছুদিন আগে হাটহাজারিতে আহলে সুন্নাহ ও হাটহাজারি মাদরাসা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেনি। ভবিষ্যতে এটাকে কেন্দ্র করে মারাত্মক সংকট তৈরি হতে পারে। এটা যদিও পলিটিক্যাল ইস্যু না, কিন্তু দেখি যে আমরা এগুলোর মধ্য দিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সুতরাং যখন রাজনীতিতে আসবে এটার সঙ্গে যখন ভোটের হিসাব জড়িত হবে তখন ক্রমাগত নতুন নতুন আইডেন্টিটি বের হতে থাকবে এবং একটা পর্যায়ে ইট উইলবি কমপ্লিট। আরেকটা জিনিস আমি সবসময় বলি, আইডেন্টিটি পলিটিক্স যত বেশি সামনে আসতে থাকে, তখন দলগুলো ওটাকে উসকে দিয়ে মানুষের ভোট পাওয়ার উপায় খোঁজার চেষ্টা করে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই নিয়ে নিলুফারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ছাত্রদল সভাপতির

জামায়াত মুক্তিযোদ্ধা হলেও সমর্থন করতাম না, ইসলামী দলের রাজনীতি সমর্থন করি না: জাহেদ

আপডেট সময় ১২:০২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার জামায়াত মুক্তিযোদ্ধা হলেও সমর্থন করতাম না বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় জামায়াতকে সমর্থন না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কিংবা ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ে যখনই আমি কথা বলি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রতি আমার সমালোচনা থাকে, বিরোধিতা থাকে, খুব কমন কতগুলো মন্তব্য থাকে, প্রচুর গালিগালাজ থাকে। অনেকে জানতে চান যে আমি কেন তাদের সমর্থন করি না? তারা এত ভালো, কেন তারপরও সমর্থন করছি না? তো আমি এই প্রশ্নটার একটু জবাব দেওয়া দরকার বলে মনে করি।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের একটা ভূমিকা আছে। আমরা ধরে নিই জামায়াতে ইসলামী ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেনি। তারা পাকিস্তানের পক্ষে থাকেনি। ধরে নিলাম তারা মুক্তিযুদ্ধই করেছে। তারপরও আজকে জামায়াতে ইসলামের যে রাজনীতি সেটাকে আমি সমর্থন করতাম কিনা? উত্তর হচ্ছে না। আরেকটু বলি, জামায়াতের প্রতি আসলে আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। কিন্তু আমি জামায়াতের রাজনীতি বা যেকোনো ইসলামী দলের রাজনীতি সমর্থন করি না।’ ‘যখন আপনি ভালো আছেন বলে আপনি ঘাড় ধরে আমাকে ভালোটা মানাতে চাইবেন, এটা ফ্যাসিবাদ।

তার চিন্তা, তার প্ল্যান, তার কর্মসূচি ইজ দ্য বেস্ট। তার মানে কি এই যে, সেটা আমাকে মানতে হবে? ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরির পর আমাকে নিয়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন। মানে একটা দল কোনো একটা প্রেক্ষাপটে জিতে যাওয়া মানে সেটা সবসময় সঠিক জায়গায় আছে তা না। গণতন্ত্র বহু সময় ভুল মানুষকে চুজ করায়। এখনকার গ্লোবাল ট্রেন্ডটাও ওইদিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ফর্মের আইডেন্টিটি পলিটিক্স আমি স্ট্রংলি ডিনাউন্স করি। একেবারে আমি কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না। আমাদের জামায়াতে ইসলামী একটা ধর্মভিত্তিক আইডেন্টিটি পলিটিক্স করছে। তারা ইসলাম এবং শরীয়াহ আইন কায়েম করবেন বলেছেন। ইসলাম ধর্ম আর ইসলামিজম এক জিনিস না। আমরা যখন আইডেন্টিটিকে একটা ভিত্তি হিসেবে ধরি, তখন আরো নতুন নতুন আইডেন্টিটি এসে উদয় হয়। একটা উদাহরণ দিই। আমরা ৪৭-এ দেশভাগ করেছিলাম। আমাদের সামনে বলা হলো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হবে যেখানে মুসলিম মেজরিটি পাকিস্তান হবে। কিন্তু কিছুদিনের পরই দেখা গেল দুই পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলো।’

‘ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামের শত্রু বলে মনে করে। হেফাজতে ইসলামের আমির বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে থাকলে ঈমান থাকবে না। তার মানে জামায়াতের সঙ্গ মানে আমরা ঈমানহারা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তার মানে ইসলামের মধ্যেও ডিফারেন্ট ইন্টারপ্রিটেশনস আছে এবং দল উপদল তৈরি হতে থাকে। সংকটের জায়গা কিন্তু এখানেই। একটার পর একটা আইডেন্টিটি বাড়তে থাকে এবং এটা মানুষের মধ্যে ক্রমাগত প্রবলেম তৈরি করতে থাকে।’

‘কিছুদিন আগে হাটহাজারিতে আহলে সুন্নাহ ও হাটহাজারি মাদরাসা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেনি। ভবিষ্যতে এটাকে কেন্দ্র করে মারাত্মক সংকট তৈরি হতে পারে। এটা যদিও পলিটিক্যাল ইস্যু না, কিন্তু দেখি যে আমরা এগুলোর মধ্য দিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সুতরাং যখন রাজনীতিতে আসবে এটার সঙ্গে যখন ভোটের হিসাব জড়িত হবে তখন ক্রমাগত নতুন নতুন আইডেন্টিটি বের হতে থাকবে এবং একটা পর্যায়ে ইট উইলবি কমপ্লিট। আরেকটা জিনিস আমি সবসময় বলি, আইডেন্টিটি পলিটিক্স যত বেশি সামনে আসতে থাকে, তখন দলগুলো ওটাকে উসকে দিয়ে মানুষের ভোট পাওয়ার উপায় খোঁজার চেষ্টা করে।’