আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে শনিবার রাতে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, এই সংঘর্ষে তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৫টি সীমান্তপোস্ট দখল করেছে এবং ৫৮ জন পাক সেনা নিহত হয়েছে।

রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালে কাবুলে এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে আফগান সেনাবাহিনীর ৯ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছে।

মুজাহিদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “পাকিস্তান যদি আবারও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তবে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

তোলো নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের পর আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশে ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে। এতে সীমান্ত অঞ্চলে এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর, যেখানে পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) নেতাদের টার্গেট করেছে। হামলায় টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেসুদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়ায়।

পাকিস্তানের এই হামলাকে আফগান সরকার তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে নিন্দা জানায়। এর পরদিন রাতেই আফগান সেনারা আঙ্গুর আড্ডা, বাজাউর, কুরম, দির, চিত্রাল ও বারামচা এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়।

বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি বিরাজ করছে, কারণ উভয় পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে হতাহত ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে।