বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তারা এ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে দেবেন।
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগকে দায়ী করছে। তবে দলটির নেতারা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, সরকারের মদদপুষ্ট সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এসব ঘটনা ঘটিয়ে দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।
আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবে। ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত জানায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এবং মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছেন, “ক্যাঙারু কোর্ট বানিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভুয়া রায় দেয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধেই লকডাউন কর্মসূচি পালিত হবে।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, গত ১১ দিনে রাজধানীতে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ৯টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “১৩ নভেম্বর নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ আমরা সবাই মিলে শান্তি বজায় রাখব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ তাদের নেত্রীর মামলার রায়কে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এ ধরনের সংকট বারবার ঘটবে, যা কেবল পুলিশের পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন।
গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগ ভার্চুয়াল বক্তৃতা ও ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি জানিয়ে আসছিল। তবে শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা কেন্দ্রিক বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
দলটির এক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ভিডিও বার্তায় ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ ও ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এতে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘জুলাই ঐক্য’ মঞ্চসহ বিভিন্ন দল এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করে।
এরই মধ্যে ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “সরকারের প্রশ্রয় পাওয়া সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোই এ ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে। আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করবে।”
মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, “দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে দেশবাসীকে তা সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এই কর্মসূচি সফল করবে।”
তবে সরকারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগই নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। জবাবে আরাফাত বলেন, “আওয়ামী লীগ এই রাজনীতি করে না।”
বাহাউদ্দিন নাসিমের ভাষায়, “জনপ্রিয় দল হিসেবে আমরা জনমতকে শ্রদ্ধা করি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজানো মামলার নাটক বন্ধের আহ্বান জানাতেই আমরা এই কর্মসূচি দিচ্ছি। এটি হবে জনগণের মতামতের প্রতিফলন।”

ডেস্ক রিপোর্ট 

























