নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া সুরক্ষিত একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আছেন মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, চিকিৎসক ও নার্স, সাবেক হাইকমিশনার এবং আইনি ও গণমাধ্যম বিষয় দেখভালকারী ব্যক্তিরা। বাসভবনটি কার্যত একটি ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ১১ অক্টোবর হাসিনার দিল্লির বাসায় সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনা হয়—
- ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি মোকাবেলা।
- আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা।
- তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করা।
বৈঠকে উপস্থিত notable নেতাদের মধ্যে ছিলেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুবলীগ ও সংসদ সদস্য প্রাক্তন নেতারা।
নাশকতার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকায় নেতাকর্মীদের অস্ত্র ও ককটেল হামলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর কাকরাইল এলাকার চার্চে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পলাতক নেতারা ১৩ নভেম্বরের আগে ঢাকায় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে উদ্যোগী।
অর্থ জোগান নিয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নেতাকর্মীদের নগদ অনুদান সীমিত, যা ন্যায্য মনে করছেন না। এছাড়াও, শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সিকদার গ্রুপ ইতিমধ্যে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ও আশপাশের থানায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক নেতারা দেশে বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেছে। দেশের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে এবং করবে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 

























