ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে হত্যা, মূল আসামি মাইনুল গ্রেপ্তার বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের বৈঠক মায়ের কাছে স্মার্ট ফোনের আবদার, টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করায় মাথা ফাটলো দুই শিক্ষার্থীর হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থের বিনিময়ে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাঞ্চল্যকর কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

সরকার পতনের পর নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলগুলোতে অর্থের বিনিময়ে কর্মী-সমর্থক আনার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মিছিলে অংশ নিতে কর্মীদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে, আর ব্যানার ধরার জন্য দেওয়া হচ্ছে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু রাজধানী নয়, বিভিন্ন জেলা থেকেও কর্মী-সমর্থকদের এনে এসব মিছিলে অংশগ্রহণ করানো হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছরের মে মাসে সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল দেখা যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,

“রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব ঝটিকা মিছিল আয়োজন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে অর্থের বিনিময়ে অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।”

তিনি আরও বলেন,

“যারা এসব মিছিল থেকে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বা নাশকতা ঘটাচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা আশ্রয়, ইন্ধন বা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে এসব নাশকতামূলক ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অর্থ লেনদেনের প্রবণতা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন,

“শুধু গ্রেপ্তার করলেই সমস্যা সমাধান হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি। নির্বাচনের আগে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন

অর্থের বিনিময়ে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাঞ্চল্যকর কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৫:৫৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

সরকার পতনের পর নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলগুলোতে অর্থের বিনিময়ে কর্মী-সমর্থক আনার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মিছিলে অংশ নিতে কর্মীদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে, আর ব্যানার ধরার জন্য দেওয়া হচ্ছে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু রাজধানী নয়, বিভিন্ন জেলা থেকেও কর্মী-সমর্থকদের এনে এসব মিছিলে অংশগ্রহণ করানো হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছরের মে মাসে সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল দেখা যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,

“রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব ঝটিকা মিছিল আয়োজন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে অর্থের বিনিময়ে অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।”

তিনি আরও বলেন,

“যারা এসব মিছিল থেকে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বা নাশকতা ঘটাচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা আশ্রয়, ইন্ধন বা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে এসব নাশকতামূলক ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অর্থ লেনদেনের প্রবণতা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন,

“শুধু গ্রেপ্তার করলেই সমস্যা সমাধান হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি। নির্বাচনের আগে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।”