ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জেন জি’র পর এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত ‘জুলাই ও হাদী ব্যবসায়ী’ উল্লেখ করে পোস্ট, রাবি শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ জামিনের পর তিশা, ‘স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা করেছে’ গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হতেন: জামায়াত বিশ্বকাপের সময়ের কিছুই তো তুমি জানতে পারলে না বাবা: মেসি অবৈধ অটোরিকশায় হঠাৎ বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা: জ্বালানিমন্ত্রী প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেনের জানাযায় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে বন্ধু প্রদীপ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এলাকাবাসীর ভাঙচুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা বহনের দাবি অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত: পুলিশ মার্কিন ক্ষেপ/ণাস্ত্র পেলেই রাশিয়ায় হা’ম’লা চালাবেন জেলেনস্কি

প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেনের জানাযায় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে বন্ধু প্রদীপ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জানাজার কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে চোখে পড়ছিলেন প্রদীপ সরকার। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই মানুষটি এসেছিলেন প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে। চোখে তখন জল, মুখে কোনো কথা নেই। শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধুর জানাজার কাতারে।

এদিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের প্রদীপ সরকারের সঙ্গে একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বাবুলের বন্ধুত্ব বহুদিনের। ধর্ম আলাদা হলেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে সেই ভিন্নতার কোনো ছাপ ছিল না। জীবনের নানা সময়ে সুখদুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে হেসেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কিন্তু বুধবার রাতে সেই বন্ধুত্বের গল্পে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। অসুস্থতাজনিত কারণে রাত ১১টার দিকে মারা যান কামাল হোসেন বাবুল। বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি প্রদীপ সরকার। বৃহস্পতিবার বাবুলের জানাজায় হাজির হন তিনি।

জানাজার মাঠে তখন স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভিড়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেও প্রদীপ সরকারের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন আলাদা এক গল্প বলছিল। প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কখনো নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কখনো চোখের পানি মুছছিলেন প্রদীপ। বাবুলের জানাজায় প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি তাই শুধু একজন বন্ধুর শেষ বিদায়ে আসা নয়, হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক আবেগঘন দৃশ্য।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি’র পর এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত

প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেনের জানাযায় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে বন্ধু প্রদীপ

আপডেট সময় ০২:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জানাজার কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে চোখে পড়ছিলেন প্রদীপ সরকার। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই মানুষটি এসেছিলেন প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে। চোখে তখন জল, মুখে কোনো কথা নেই। শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধুর জানাজার কাতারে।

এদিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের প্রদীপ সরকারের সঙ্গে একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বাবুলের বন্ধুত্ব বহুদিনের। ধর্ম আলাদা হলেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে সেই ভিন্নতার কোনো ছাপ ছিল না। জীবনের নানা সময়ে সুখদুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে হেসেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কিন্তু বুধবার রাতে সেই বন্ধুত্বের গল্পে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। অসুস্থতাজনিত কারণে রাত ১১টার দিকে মারা যান কামাল হোসেন বাবুল। বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি প্রদীপ সরকার। বৃহস্পতিবার বাবুলের জানাজায় হাজির হন তিনি।

জানাজার মাঠে তখন স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভিড়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেও প্রদীপ সরকারের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন আলাদা এক গল্প বলছিল। প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কখনো নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কখনো চোখের পানি মুছছিলেন প্রদীপ। বাবুলের জানাজায় প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি তাই শুধু একজন বন্ধুর শেষ বিদায়ে আসা নয়, হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক আবেগঘন দৃশ্য।