রাজধানীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার তারিখকে কেন্দ্র করে ‘লকডাউন’ কর্মসূচির তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে কিছু এলাকায় যান চলাচল কম থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং কয়েকটি স্থানে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
ট্রাইব্যুনাল সকালেই জানায় যে রায় ঘোষণা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর। এর আগে দলটির পলাতক নেতাদের বৈদেশিক অবস্থান থেকে ভার্চুয়াল নির্দেশনা দেওয়ার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। ভিডিও বার্তায় লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি।
জনজীবন ছিল স্বাভাবিক, নিরাপত্তা ছিল জোরদার
ঢাকায় দুপুরের পর থেকেই যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে খুলে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে অবস্থান নিলেও জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। চলাচল সচল রাখতে পুলিশের অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট এবং সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল তল্লাশি বাড়ানো হয়।
বিক্ষিপ্ত নাশকতা—মোটরসাইকেলযোগে হামলা পদ্ধতি একই
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক নাশকতার ধরন একই—ছোট দল মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। কয়েকটি ঘটনায় পেট্রলভর্তি ক্যান ও লোহার রড ব্যবহার করে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় অজ্ঞাতনামা বহুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া এবং ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা নজরে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি কার্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও গণপরিবহনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কাকরাইলের গির্জায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ছাত্রলীগ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাজধানীতে দুই দিনে ৮০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিভিন্ন দলের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
- বিএনপি: রামপুরা, বাড্ডা, হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান ও মিছিল।
- জামায়াত: পল্টন, গুলিস্তান, প্রেস ক্লাব, মগবাজারসহ বহুস্থানে মিছিল।
- ছাত্রশিবির: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি।
- ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন: শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ।
- ইসলামী আন্দোলন: রাজধানীর অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান ও বিক্ষোভ।
- খেলাফত ছাত্র মজলিস ও অন্যান্য শরিক দল: বায়তুল মোকাররম ও প্রেস ক্লাব এলাকায় মিছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্তুষ্ট পুলিশ
ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ডিবি প্রধান বলেন, কঠোর নজরদারি ও অভিযানের কারণে পরিকল্পিত ‘লকডাউন’ ব্যাহত হয়েছে।

