ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্যভিচারের মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতের মিশনগুলো হবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে টাকা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক, প্রমাণ করতে পারলে তাকে মেডেল দেব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াত আমির ৭  মাসে দেশ কেঁপেছে ৩০ বার: ঢাকার ৬ লাখ ভবনের ৪০ শতাংশ ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা  যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান আজ নাসির-তামিমার বিয়ে মামলার রায়, দোষ প্রমাণ হলে হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড রামিসার পাশের বাসা থেকে পাঁচ বছরের শিশু নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি খোঁজ জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, সাইরেন বাজছে কুয়েতেও বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, চাকরী করছেন বিভিন্ন সেক্টরে

আর কোনোদিন মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না: নাহিদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

গত ১৬ বছর দেশে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। তারা দেশে গুম, খুন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জুলাই গণআন্দোলনে আমরা ফ্যাসিস্ট বিদায় করতে সক্ষম হয়েছি। একটি দল অতীতে পাকিস্তানপন্থি রাজাকারদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করেছিল। তারা বর্তমানে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশে আর কোনোদিন মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না। সোমবার বিকালে বরগুনা পৌর মার্কেট চত্বরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত এক পথসভায় দলটির আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণআন্দোলন হয়েছে। কিন্তু, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। সংস্কার ও বিচার সম্পন্ন না করা পর্যন্ত দেশে কোনও নির্বাচন হতে পারে না। জনগণ তা মেনেও নেবে না। নাহিদ ইসলাম বলেন, গত বছর আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এবার দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। স্বৈরাচার ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দেশছাড়া করা হবে। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বরগুনা একটি নদীমাতৃক ও অনুন্নত জেলা। এখানে অসংখ্য জেলে ও কৃষকের বাস। আমরা তাদের সন্তান। আমাদের বরগুনার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বরগুনার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে এখানকার সন্তান এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্তর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বরগুনাবাসীকে এনসিপির সাথে কাজ করার আহবান জানান।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জুলাই গণআন্দোলনে আমার বরিশাল থেকে বরগুনায় আসার সুযোগ হয়েছিল। এখানকার রাস্তাঘাট অনেক অনুন্নত। এখানকার হাসপাতালে ডাক্তার থাকে না। এখানে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। আমি এনপিপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, বরগুনার উন্নয়নে আমাদের প্রচুর কাজ করতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সাফ কথা বলে দিতে চাই, আমাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল রাস্তা থেকে, আর শেষ হবে সংসদে গিয়ে। আমরা সে লড়াইয়েও জিতবো ইনশাআল্লাহ।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, বরগুনার এত মানুষ প্রমাণ করে আপনারা গণআন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। আমরা চারদিকে দেখতে পাচ্ছি গণঅভ্যুত্থানের শক্তি। আমরা এখন জেলায় জেলায় যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমরা উপজেলায় উপজেলায় যাব। আমরা মানুষের কাছে যাব। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের নেতৃত্বে হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাংলাদেশের শুধু একটি দল আছে, সেটি হলো এনসিপি। আমাদের সবসময় জবাবদিহির মধ্যে রাখবেন। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের কিছু দাবি আছে। আমাদের একটি নতুন সংবিধান লাগবে। ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও আমরা সামান্যতম মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারিনি। এর প্রতিবাদ জানিয়ে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু আমরা নতুন বাংলাদেশ পাইনি। নতুন বাংলাদেশ পেতে হলে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ছাড়া আমরা ঘরে ফিরে যাব না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যভিচারের মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা

আর কোনোদিন মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না: নাহিদ

আপডেট সময় ০২:০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

গত ১৬ বছর দেশে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। তারা দেশে গুম, খুন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জুলাই গণআন্দোলনে আমরা ফ্যাসিস্ট বিদায় করতে সক্ষম হয়েছি। একটি দল অতীতে পাকিস্তানপন্থি রাজাকারদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করেছিল। তারা বর্তমানে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশে আর কোনোদিন মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না। সোমবার বিকালে বরগুনা পৌর মার্কেট চত্বরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত এক পথসভায় দলটির আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণআন্দোলন হয়েছে। কিন্তু, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। সংস্কার ও বিচার সম্পন্ন না করা পর্যন্ত দেশে কোনও নির্বাচন হতে পারে না। জনগণ তা মেনেও নেবে না। নাহিদ ইসলাম বলেন, গত বছর আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এবার দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। স্বৈরাচার ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দেশছাড়া করা হবে। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বরগুনা একটি নদীমাতৃক ও অনুন্নত জেলা। এখানে অসংখ্য জেলে ও কৃষকের বাস। আমরা তাদের সন্তান। আমাদের বরগুনার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বরগুনার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে এখানকার সন্তান এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্তর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বরগুনাবাসীকে এনসিপির সাথে কাজ করার আহবান জানান।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জুলাই গণআন্দোলনে আমার বরিশাল থেকে বরগুনায় আসার সুযোগ হয়েছিল। এখানকার রাস্তাঘাট অনেক অনুন্নত। এখানকার হাসপাতালে ডাক্তার থাকে না। এখানে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। আমি এনপিপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, বরগুনার উন্নয়নে আমাদের প্রচুর কাজ করতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সাফ কথা বলে দিতে চাই, আমাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল রাস্তা থেকে, আর শেষ হবে সংসদে গিয়ে। আমরা সে লড়াইয়েও জিতবো ইনশাআল্লাহ।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, বরগুনার এত মানুষ প্রমাণ করে আপনারা গণআন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। আমরা চারদিকে দেখতে পাচ্ছি গণঅভ্যুত্থানের শক্তি। আমরা এখন জেলায় জেলায় যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমরা উপজেলায় উপজেলায় যাব। আমরা মানুষের কাছে যাব। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের নেতৃত্বে হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাংলাদেশের শুধু একটি দল আছে, সেটি হলো এনসিপি। আমাদের সবসময় জবাবদিহির মধ্যে রাখবেন। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের কিছু দাবি আছে। আমাদের একটি নতুন সংবিধান লাগবে। ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও আমরা সামান্যতম মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারিনি। এর প্রতিবাদ জানিয়ে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু আমরা নতুন বাংলাদেশ পাইনি। নতুন বাংলাদেশ পেতে হলে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ছাড়া আমরা ঘরে ফিরে যাব না।