ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম শেরপুরে জেল ভেঙে পালানো সাড়ে ৩শ আসামিকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত নাটোরে মন্ত্রীর পথসভা থেকে উদ্ধার অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিবে ভারত, প্রত্যাশা জামায়াতের রাষ্ট্রপতি পদে ড. ইউনূসকে প্রস্তাব দেয়নি বিএনপি, আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নাম শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান সাকিব চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা

মধ্যপ্রাচ্যে ২০ যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক শ সামরিক বিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাইমার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও জোরদার হবে বলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প জানিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছি। উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় তাদের যা কিছু আছে, সবকিছুই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ না আমি বলব যে– (থামো) যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ হামলা চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনায় আছে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দিচ্ছি। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা হবে।তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব। আগামী রাতেও হামলা হবে। তার পরের রাতেও হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হবে। এরপর সেতুগুলোতে হামলা হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব। সব সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়তাদের চুক্তি করাই ভালো। নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি আগে সেখানে (হরমুজ প্রণালি) একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায়, যা আমার কাছে আরও ভালো মনে হয়েছে। আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। না হলে অন্যরাও একই কাজ শুরু করবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এই লোকদের সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন। আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি। আমরা সেটাই করেছি তিনি আরও দাবি করেন, ‘দুই দিন আগে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা তা ভেঙে দিয়েছে।ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

মূলত সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন

মধ্যপ্রাচ্যে ২০ যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক শ সামরিক বিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় ০৩:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাইমার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও জোরদার হবে বলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প জানিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছি। উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় তাদের যা কিছু আছে, সবকিছুই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ না আমি বলব যে– (থামো) যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ হামলা চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনায় আছে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দিচ্ছি। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা হবে।তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব। আগামী রাতেও হামলা হবে। তার পরের রাতেও হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হবে। এরপর সেতুগুলোতে হামলা হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব। সব সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়তাদের চুক্তি করাই ভালো। নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি আগে সেখানে (হরমুজ প্রণালি) একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায়, যা আমার কাছে আরও ভালো মনে হয়েছে। আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। না হলে অন্যরাও একই কাজ শুরু করবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এই লোকদের সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন। আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি। আমরা সেটাই করেছি তিনি আরও দাবি করেন, ‘দুই দিন আগে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা তা ভেঙে দিয়েছে।ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

মূলত সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে।