ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে যুবক আটক, এনসিপি-বিএনপি মুখোমুখি ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতই ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য: নেতানিয়াহু নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বরণে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী সেই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের, আছে সুবিধা-অসুবিধা ক্ষমতাসীনদের গালি দেওয়া কি অপরাধ? প্রশ্ন তাসনিম জারার কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোনসহ আন্তর্জাতিক জুয়া চক্রের ৬ চীনা নাগরিক আটক দেশের বিচারব্যবস্থা এখনও দুর্বল: নাহিদ ইসলাম সরকারের সমালোচনা বিরোধীদল করবে, কিন্তু সেটা যৌক্তিক হতে হবে: রিজভী ৬ মাসে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ সরকার: ইসলামী আন্দোলন

স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এক বাণীতে এ কথা বলেছেন। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বাণী পোস্ট করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দিবসটি আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলাকে সমর্থন করে। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন উৎসাহিত করা হয়। গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। জীবনদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। তিনি আজকের এই দিনে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি জানাচ্ছেন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগে অংশ নিতে পারে। গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না। আর সে কারণে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনো বিরাজমান বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেড় দশক ধরে বাংলাদেশেও নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার হরণ করে এক সর্বনাশা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম-খুনসহ আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন যোদ্ধা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর নামিয়ে আনা হয়েছিল মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বর্বরোচিত অত্যাচার।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে গত বছরের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করলেও এখনো পূর্ণ গণতন্ত্র আসেনি। অবাধ, মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সর্বজনীন শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়। এ বছরের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্যের কথা উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গ—সবার সমান অংশগ্রহণ ও সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়। গণতন্ত্র লিঙ্গভেদে কারও প্রতি কোনো বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে না; বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে যুবক আটক, এনসিপি-বিএনপি মুখোমুখি

স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:০৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এক বাণীতে এ কথা বলেছেন। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বাণী পোস্ট করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দিবসটি আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলাকে সমর্থন করে। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন উৎসাহিত করা হয়। গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। জীবনদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। তিনি আজকের এই দিনে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি জানাচ্ছেন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগে অংশ নিতে পারে। গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না। আর সে কারণে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনো বিরাজমান বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেড় দশক ধরে বাংলাদেশেও নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার হরণ করে এক সর্বনাশা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম-খুনসহ আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন যোদ্ধা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর নামিয়ে আনা হয়েছিল মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বর্বরোচিত অত্যাচার।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে গত বছরের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করলেও এখনো পূর্ণ গণতন্ত্র আসেনি। অবাধ, মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সর্বজনীন শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়। এ বছরের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্যের কথা উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গ—সবার সমান অংশগ্রহণ ও সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়। গণতন্ত্র লিঙ্গভেদে কারও প্রতি কোনো বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে না; বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।