ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা মুছে ফেলতে চান তামিম লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সম্পদ জব্দ থাকবে: ট্রাম্প স্ত্রীকে নিয়ে পালাল প্রতিবেশী, প্রতিশোধে তার স্ত্রীকেই বিয়ে করলেন স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০ লেবাননে আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানালেন ট্রাম্প তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা পড়ল ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা রোমানিয়ার বন্দরে বিস্ফোরিত ড্রোন ইউক্রেনের ছিল, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন জামায়াতে আমীর রাজধানীতে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গু’লি করে ছিন/তাই

যমুনায় মাছ ধরতে মাসোহারা দিতে হয় চৌহালী নৌ-পুলিশের ওসিকে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • ১৪৯৬ বার পড়া হয়েছে

আল ইমরান মনু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে মাছ ধরতে জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ না দিলে জেলেদের জাল জব্দ করা হয়, তবে অর্থের বিনিময়ে তা আবার ফেরত দেওয়া হয়।

জানা গেছে, যমুনা নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলেও, বিপরীতে নৌ-পুলিশ কিছু জেলেদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে মাসিক অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ অনুসারে, প্রতি জেলে থেকে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, “যমুনায় মাছ ধরতে হলে ওসি মিজান স্যারকে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে জাল ধরে নিয়ে যায়, তবে টাকা দিলে জাল ফেরত দেয়।” তারা আরও জানান, বেশিরভাগ সময় বিকাশের মাধ্যমে অর্থ নেয়া হয়, কখনো ওসি নিজেই টাকা নেন, আবার কখনো তার সোর্স এর মাধ্যমে নেন।

সম্প্রতি একটি ঘটনায় দেখা যায়, নৌ-পুলিশ টহলে গিয়ে নদী থেকে ১০টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫টি জাল ফেরত দেয়।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়—ওসি গাজী মিজানুর রহমান উপজেলা সদরের একটি বিকাশ দোকানে গিয়ে খামে করে টাকা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও একটি ছবিতে তাকে সরাসরি এক জেলের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা গেছে।

জোতপাড়া বাজারের বিকাশ এজেন্ট আব্দুর রহিম বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে বলেন খামে ভরে টাকা দিতে, আমি তাই দিয়েছি। টাকার উৎস বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কয়েকদিন আগে একটি জাল ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি আমার মাধ্যমে এক জেলের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছিলেন।”

এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি গাজী মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে টাংগাইল অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানা বলেন, অন্যায় যেই করুক সেটা অন্যায়। সে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা মুছে ফেলতে চান তামিম

যমুনায় মাছ ধরতে মাসোহারা দিতে হয় চৌহালী নৌ-পুলিশের ওসিকে

আপডেট সময় ০৪:৫০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

আল ইমরান মনু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে মাছ ধরতে জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ না দিলে জেলেদের জাল জব্দ করা হয়, তবে অর্থের বিনিময়ে তা আবার ফেরত দেওয়া হয়।

জানা গেছে, যমুনা নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলেও, বিপরীতে নৌ-পুলিশ কিছু জেলেদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে মাসিক অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ অনুসারে, প্রতি জেলে থেকে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, “যমুনায় মাছ ধরতে হলে ওসি মিজান স্যারকে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে জাল ধরে নিয়ে যায়, তবে টাকা দিলে জাল ফেরত দেয়।” তারা আরও জানান, বেশিরভাগ সময় বিকাশের মাধ্যমে অর্থ নেয়া হয়, কখনো ওসি নিজেই টাকা নেন, আবার কখনো তার সোর্স এর মাধ্যমে নেন।

সম্প্রতি একটি ঘটনায় দেখা যায়, নৌ-পুলিশ টহলে গিয়ে নদী থেকে ১০টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫টি জাল ফেরত দেয়।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়—ওসি গাজী মিজানুর রহমান উপজেলা সদরের একটি বিকাশ দোকানে গিয়ে খামে করে টাকা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও একটি ছবিতে তাকে সরাসরি এক জেলের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা গেছে।

জোতপাড়া বাজারের বিকাশ এজেন্ট আব্দুর রহিম বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে বলেন খামে ভরে টাকা দিতে, আমি তাই দিয়েছি। টাকার উৎস বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কয়েকদিন আগে একটি জাল ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি আমার মাধ্যমে এক জেলের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছিলেন।”

এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি গাজী মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে টাংগাইল অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানা বলেন, অন্যায় যেই করুক সেটা অন্যায়। সে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।