ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৪ এর আজকের দিনে পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে শহীদ হন আবু সাঈদ 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের রক্তের বড় দাগ লাগে ১৬ জুলাই। পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আত্মাহুতি দেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। দিনটিতে চট্টগ্রামে তিন জন ও ঢাকায় দুইজন শহীদ হন।  আন্দোলনকারীদের দমাতে ছাত্রলীগই যথেষ্টওবায়দুল কাদেরের এমন ঘোষনায় সংগঠনটির ক্যাডাররা ভয়ংকরভাবে হামলে পড়ে আন্দোলনরতদের ওপর। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সর্বস্তরের মানুষ। কোটা আন্দোলন রূপ নিতে থাকে গণআন্দোলনে। 

এ দিন কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর সাইন্সল্যাব, কুড়িল চৌরাস্তা, গাবতলীমোহাম্মদপুর ও উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। নগর জুড়ে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাইন্স ল্যাব মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মহাখালী রেললাইন, চানখারপুলসহ আরো কয়েক জায়গায় শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগযুবলীগ মিলে ব্যাপক হামলা চারায়। এক পর্যায়ে নামানো হয় বিজিবি। এতে আন্দোলন আরো তেজি হয়। নেমে আসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে প্রগতি সরণীতে সকাল দশটার পরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অবরোধে অংশ নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ছাত্রলীগের হামলায় নাস্তানাবুদ, নগর জুড়ে পুলিশ আর আওয়ামী যৌথ হামলায় শিক্ষার্থীরা মাঠের আন্দোলনে বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়তে থাকে তখনই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে শহীদ হওয়া আবু সাঈদের ভিডিও সারা দেশে দুঃসাহসের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। আন্দোলন রূপ নেয় দাবানলে। রাজধানীতে দুইজন, চট্টগ্রামে তিনজন শহীদ হন।  ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের রঙ দিয়ে শিক্ষার্থীদের দমনহত্যাখুনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীদের উপর লেলিয়ে দেয় ছাত্রলীগকে।

১৬ জুলাই রাতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকার সাথে সারাদেশের সড়করেলসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ। কোটা আন্দোলন রূপ নিতে থাকে গণআন্দোলনে।  এদিকে, বার বার রাজু ভাস্কর্যের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাত নয়টার দিকে হলে ফেরার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। নতুন কর্মসূচির পথে এগোয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৪ এর আজকের দিনে পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে শহীদ হন আবু সাঈদ 

আপডেট সময় ১০:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের রক্তের বড় দাগ লাগে ১৬ জুলাই। পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আত্মাহুতি দেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। দিনটিতে চট্টগ্রামে তিন জন ও ঢাকায় দুইজন শহীদ হন।  আন্দোলনকারীদের দমাতে ছাত্রলীগই যথেষ্টওবায়দুল কাদেরের এমন ঘোষনায় সংগঠনটির ক্যাডাররা ভয়ংকরভাবে হামলে পড়ে আন্দোলনরতদের ওপর। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সর্বস্তরের মানুষ। কোটা আন্দোলন রূপ নিতে থাকে গণআন্দোলনে। 

এ দিন কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর সাইন্সল্যাব, কুড়িল চৌরাস্তা, গাবতলীমোহাম্মদপুর ও উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। নগর জুড়ে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাইন্স ল্যাব মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মহাখালী রেললাইন, চানখারপুলসহ আরো কয়েক জায়গায় শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগযুবলীগ মিলে ব্যাপক হামলা চারায়। এক পর্যায়ে নামানো হয় বিজিবি। এতে আন্দোলন আরো তেজি হয়। নেমে আসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে প্রগতি সরণীতে সকাল দশটার পরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অবরোধে অংশ নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ছাত্রলীগের হামলায় নাস্তানাবুদ, নগর জুড়ে পুলিশ আর আওয়ামী যৌথ হামলায় শিক্ষার্থীরা মাঠের আন্দোলনে বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়তে থাকে তখনই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলির সামনে বুক চিতিয়ে শহীদ হওয়া আবু সাঈদের ভিডিও সারা দেশে দুঃসাহসের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। আন্দোলন রূপ নেয় দাবানলে। রাজধানীতে দুইজন, চট্টগ্রামে তিনজন শহীদ হন।  ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের রঙ দিয়ে শিক্ষার্থীদের দমনহত্যাখুনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীদের উপর লেলিয়ে দেয় ছাত্রলীগকে।

১৬ জুলাই রাতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকার সাথে সারাদেশের সড়করেলসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ। কোটা আন্দোলন রূপ নিতে থাকে গণআন্দোলনে।  এদিকে, বার বার রাজু ভাস্কর্যের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাত নয়টার দিকে হলে ফেরার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। নতুন কর্মসূচির পথে এগোয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।