ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘ঘরের বাজার’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খালিদুজ্জামানের কর্মকাণ্ডকে ‘তৃতীয় শ্রেণির সস্তা রাজনীতি’ বললেন মির্জা গালিব মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল গভীর রাতে গৃহবধূর ঘরে জামায়াত নেতা, শ্বশুরের চিৎকারে ধরা কিছু মনে করবেন না বলে, বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে যা বললেন ওমর সানী

টানা ৩ মাস একদিনও ঘর থেকে বের হননি মমতাজ, যেভাবে আসেন ঢাকায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • ১৪১১ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য (এমপি) কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ আমলের এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের ৫ আগস্টের পর থেকে টানা ৩ মাস সিংগাইরে ভাইয়ের বাড়িতেই ছিলেন। এই ৩ মাসে একদিনও তিনি ওই বাড়ির বাইরে বের হননি।

তার আপন ভাই এবারত হোসেন নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তার তৃতীয় স্বামী ডা. এসএম মঈন হাসানও এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করে। তিনি এখন ৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডে আছেন।

এবারত হোসেন জানান, শিল্পী (মমতাজ) আপা ৫ আগস্টের পরের দিন থেকে টানা ৩ মাস সিংগাইরের চরদুর্গাপুরে আমার বাড়িতেই আত্মগোপন করে ছিলেন। আমার স্ত্রী, সন্তান ছাড়া পাশের বাড়ির কেউও জানতে পারেনি আপার আত্মগোপনে থাকার তথ্য। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীসহ সব শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কেউ প্রয়োজন হলে আমার মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মমতাজের ভাই এবারতের বাড়িসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাইরের কোনো আগন্তুক বাড়ির আঙ্গিনায় ঢোকামাত্র তাদের বাড়িতে কেউ নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হতো। সিংগাইরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে মমতাজ বেশ আয়েশিভাবে ভাইয়ের বাড়িতে ৩ মাস কাটিয়েছেন।

এবারত হোসেন আরও জানান, শিল্পী (মমতাজ) আপার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিপার মাধ্যমে নিপার নামেই ঢাকার ধানমন্ডিতে বাসা ভাড়া নেন। কোনো এক মধ্য রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে বোরকা পরে বের হয়ে কাকপক্ষী জানার আগেই মাইক্রোবাসে সরাসরি ধানমন্ডির ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি জানালেন গাড়ির গ্লাস ছিল কালো রংয়ের।

এবারত আরও জানান, নিপার স্বামী প্রবাসে থাকেন। মমতাজ আপার সব ধরনের দেখভাল নিপা আপাই করতেন। আর টাকার জোগান দিয়ে আসতেন মমতাজের পিএস জুয়েল। এদিকে মমতাজের আত্মগোপনের বিষয়ে জানতে বুধবার তার তৃতীয় স্বামী ডা. মঈন হাসান চঞ্চলের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে ফিরতি বার্তায় বিস্তারিত জানান।

তিনি আরও জানান, মমতাজ কিছুদিন সাবেক দ্বিতীয় স্বামী মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলীর মেয়ে রুনুর মোহাম্মদপুরের বাসায় আশ্রয়ে ছিলেন। এরপর তিনি নিপার ভাড়া করা বাসায় থাকতে শুরু করেন। তবে রমজানের ঘনিষ্ঠ স্বজন সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি এই তথ্য মিথ্যা দাবি করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও

টানা ৩ মাস একদিনও ঘর থেকে বের হননি মমতাজ, যেভাবে আসেন ঢাকায়

আপডেট সময় ০১:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য (এমপি) কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ আমলের এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের ৫ আগস্টের পর থেকে টানা ৩ মাস সিংগাইরে ভাইয়ের বাড়িতেই ছিলেন। এই ৩ মাসে একদিনও তিনি ওই বাড়ির বাইরে বের হননি।

তার আপন ভাই এবারত হোসেন নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তার তৃতীয় স্বামী ডা. এসএম মঈন হাসানও এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করে। তিনি এখন ৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডে আছেন।

এবারত হোসেন জানান, শিল্পী (মমতাজ) আপা ৫ আগস্টের পরের দিন থেকে টানা ৩ মাস সিংগাইরের চরদুর্গাপুরে আমার বাড়িতেই আত্মগোপন করে ছিলেন। আমার স্ত্রী, সন্তান ছাড়া পাশের বাড়ির কেউও জানতে পারেনি আপার আত্মগোপনে থাকার তথ্য। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীসহ সব শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কেউ প্রয়োজন হলে আমার মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মমতাজের ভাই এবারতের বাড়িসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাইরের কোনো আগন্তুক বাড়ির আঙ্গিনায় ঢোকামাত্র তাদের বাড়িতে কেউ নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হতো। সিংগাইরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে মমতাজ বেশ আয়েশিভাবে ভাইয়ের বাড়িতে ৩ মাস কাটিয়েছেন।

এবারত হোসেন আরও জানান, শিল্পী (মমতাজ) আপার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিপার মাধ্যমে নিপার নামেই ঢাকার ধানমন্ডিতে বাসা ভাড়া নেন। কোনো এক মধ্য রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে বোরকা পরে বের হয়ে কাকপক্ষী জানার আগেই মাইক্রোবাসে সরাসরি ধানমন্ডির ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি জানালেন গাড়ির গ্লাস ছিল কালো রংয়ের।

এবারত আরও জানান, নিপার স্বামী প্রবাসে থাকেন। মমতাজ আপার সব ধরনের দেখভাল নিপা আপাই করতেন। আর টাকার জোগান দিয়ে আসতেন মমতাজের পিএস জুয়েল। এদিকে মমতাজের আত্মগোপনের বিষয়ে জানতে বুধবার তার তৃতীয় স্বামী ডা. মঈন হাসান চঞ্চলের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে ফিরতি বার্তায় বিস্তারিত জানান।

তিনি আরও জানান, মমতাজ কিছুদিন সাবেক দ্বিতীয় স্বামী মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলীর মেয়ে রুনুর মোহাম্মদপুরের বাসায় আশ্রয়ে ছিলেন। এরপর তিনি নিপার ভাড়া করা বাসায় থাকতে শুরু করেন। তবে রমজানের ঘনিষ্ঠ স্বজন সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি এই তথ্য মিথ্যা দাবি করেন।