ভারতে কয়েক সপ্তাহের টানা আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিন নতুন বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে।
রোববার (২৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, এটি কেবল শুরু, পথ এখনও অনেক বাকি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকার সিজেপির অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ায় এখন কিছুটা বিশ্রামের সময় এসেছে ককরোচ পার্টি প্রধানের। দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের ৩০ বছর বয়সী এই মুখ সেই বিশ্রামের মুহূর্তগুলোকে পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করছেন।
‘‘কী করতে হবে কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে—এসব চিন্তা না করেই আমি ঘুমাতে যেতে পারছি এবং নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারছি।’’
রোববার সকালে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেছেন, এখন আর কোনও উৎকণ্ঠা নেই। আন্দোলনের ৩৭ দিনকে তিনি ‘‘সত্যিই অত্যন্ত কঠিন’’ বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে গত মে মাসে দিপকে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তী প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে তা দেশটির জেন জি বা নতুন প্রজন্মের শক্তিকে এক সুতোয় গাঁথা বিশাল আন্দোলনে রূপ নেয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার ‘ককরোচ’—যারা নিজেদের সিজেপির সমর্থক বলে পরিচয় দেন; রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দখল করে নেন। ভারতের ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রের একেবারে কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে ককরোচদের ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের আত্মহত্যার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করেন। তারা তার পদত্যাগের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। সরকারের গড়িমসিতে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার সমর্থক ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেন।
এরমাঝেই শনিবার দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে এই পথ সহজ ছিল না বলে ভিডিও বার্তায় স্মরণ করে দিয়েছেন দিপকে। অনেকে নানা সন্দেহ প্রকাশ করলেও যারা সিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। টাইফয়েডে আক্রান্ত ও গায়ে জ্বর থাকার কারণে গতকাল যন্তর মন্তরে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির এই তরুণ আন্দোলনকর্মী।
ভিডিওতে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করছিলেন, আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা এই দেশের জন্য যা করেছেন, তা আমি সত্যিই মন থেকে অনেক অনেক সম্মান করি।
যারা সমালোচনা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। দিপকে বলেন, তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রশ্নের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় সেই কারণেই আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলও পেয়েছি।’’
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















