ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামছে ডিএমপি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!: সমালোচনার জবাবে মাদানী ভারত থেকে তিন ট্রাক বিস্ফোরক আমদানি করলো বাংলাদেশ রাজনীতিতে আর জড়াতে চান না দেব, ফিরছেন অভিনয়ে রাজধানীর সব বাসায় সোলার বসানোর উদ্যোগ সরকারের ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন? ইরান ‘চিরকাল’ হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা

আইসিটি এলাকায় ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ মাইকিং—হাসিনাসহ তিন আসামির রায় ঘিরে উত্তেজনা–কড়া নিরাপত্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে


সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর সামনে সকাল থেকেই অস্বাভাবিক এক দৃশ্য। আদালত এলাকায় হঠাৎ করেই মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়—
“একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… আমাদের হাসিনা খালা (শেখ হাসিনা) ৫ আগস্ট সপরিবারে হারিয়ে গেছেন। কোনো সৎ-হৃদয়বান ব্যক্তি তাঁর সন্ধান পেলে তাঁকে হাইকোর্টের ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দেবেন…”
মানুষ হারানোর প্রচলিত মাইকিংয়ের ধাঁচে করা এই ঘোষণাটি জনতার ভিড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আজ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন। সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে বহুস্তর নিরাপত্তা। যান চলাচলও মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।

আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন কর্মসূচি’ সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যত অকার্যকর থাকে। অন্যদিকে জামায়াতসহ আটটি ইসলামিক দল মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা শুরু হতে পারে এবং এটি জাতীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসরি প্রচার করা হবে।

২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫ হাজার আহত হওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ভিডিও–অডিও প্রমাণ, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টসহ বিস্তৃত সাক্ষ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল সাবেক আইজিপি মামুনের রাজসাক্ষী হওয়া।

আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানি, হত্যার নির্দেশ, তথ্যচাপা, জঘন্য হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাকে এই গণহত্যার “নিউক্লিয়াস” বলে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন অভিযোগ প্রমাণ হয়নি দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেছেন।

সবশেষে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ইতিহাসে আমরা কাপুরুষ হয়ে থাকব।”
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আশ্বাস দেন—“দুই পক্ষই ন্যায়বিচার পাবে।”

১৩ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণের পর থেকেই উত্তেজনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ, পাল্টা কর্মসূচি এবং কঠোর নজরদারির মধ্যেই আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামছে ডিএমপি

আইসিটি এলাকায় ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ মাইকিং—হাসিনাসহ তিন আসামির রায় ঘিরে উত্তেজনা–কড়া নিরাপত্তা

আপডেট সময় ১২:০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫


সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর সামনে সকাল থেকেই অস্বাভাবিক এক দৃশ্য। আদালত এলাকায় হঠাৎ করেই মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়—
“একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… আমাদের হাসিনা খালা (শেখ হাসিনা) ৫ আগস্ট সপরিবারে হারিয়ে গেছেন। কোনো সৎ-হৃদয়বান ব্যক্তি তাঁর সন্ধান পেলে তাঁকে হাইকোর্টের ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দেবেন…”
মানুষ হারানোর প্রচলিত মাইকিংয়ের ধাঁচে করা এই ঘোষণাটি জনতার ভিড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আজ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন। সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে বহুস্তর নিরাপত্তা। যান চলাচলও মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।

আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন কর্মসূচি’ সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যত অকার্যকর থাকে। অন্যদিকে জামায়াতসহ আটটি ইসলামিক দল মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা শুরু হতে পারে এবং এটি জাতীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন চ্যানেলে সরাসরি প্রচার করা হবে।

২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫ হাজার আহত হওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ভিডিও–অডিও প্রমাণ, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টসহ বিস্তৃত সাক্ষ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল সাবেক আইজিপি মামুনের রাজসাক্ষী হওয়া।

আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানি, হত্যার নির্দেশ, তথ্যচাপা, জঘন্য হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাকে এই গণহত্যার “নিউক্লিয়াস” বলে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন অভিযোগ প্রমাণ হয়নি দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেছেন।

সবশেষে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ইতিহাসে আমরা কাপুরুষ হয়ে থাকব।”
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আশ্বাস দেন—“দুই পক্ষই ন্যায়বিচার পাবে।”

১৩ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণের পর থেকেই উত্তেজনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ, পাল্টা কর্মসূচি এবং কঠোর নজরদারির মধ্যেই আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।