ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জোড়া গোল করেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ নেইমার এমপি নজরুলের একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর ভিডিও এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নযাত্রায় ‘কিকি’ রামোস নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা, ২ মার্কিন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করলো ব্রাজিল নেতানিয়াহুর সমর্থন নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা বলসোনারোর ছেলের যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার ও ১৭ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার প্রাণ হারানোর ভয়ে উড়োজাহাজ পাল্টে দ্রুত দেশে ফেরেন ট্রাম্প বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন, প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য যাবেন বিদেশে

এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নযাত্রায় ‘কিকি’ রামোস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এবার হাইতির রাজধানী পোর্টপ্রিন্সের একটি এতিমখানায় জন্ম হয়েছিল স্টিফেনকিকিরামোসের। জীবনের শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ঘেরা। কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়, যখন আর্জেন্টিনার একটি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা আর নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেই শিশুই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আলোচনায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দল থেকে উঠে এসে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব১৭ জাতীয় দলে।

বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলছেন রামোস। তার স্বাভাবিক পজিশন লেফট উইং হলেও প্রয়োজন হলে ডান প্রান্তেও সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলতে পারেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং বল হারানোর পরপরই প্রেসিং এসব গুণের কারণে বয়সভিত্তিক ফুটবলে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ভেলেজের যুব দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন রামোস। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই করেছেন ১২টি গোল। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে নিজের প্রতিভার বড় প্রমাণ দিয়েছেন। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব১৭ জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রামোস বলেন, আর্জেন্টিনাই তার বেড়ে ওঠার দেশ। এখানেই তিনি স্প্যানিশ ভাষা শিখেছেন, এখানেই গড়ে উঠেছে তার জীবন। ভেলেজের মূল দলে অভিষেক করা এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে খেলা এই দুটি স্বপ্নই এখন তাকে অনুপ্রাণিত করছে। দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে স্বাভাবিক লেফট উইঙ্গার পজিশনে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে দলটির কোচিং স্টাফ। সেই জায়গায় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে রামোসকে। বয়স, দক্ষতা এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে, যখন তার বয়স হবে মাত্র ২১ বছর, তখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।

রামোসের গল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হলো তার শিকড়। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। হাইতিতে জন্ম নেয়া এবং পরে আর্জেন্টিনায় দত্তক নেয়া রামোস ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারলে তিনি হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে নতুন এক ইতিহাসের অংশ হবেন। তাই তার যাত্রা শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের উত্থানের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়ও।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জোড়া গোল করেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ নেইমার

এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নযাত্রায় ‘কিকি’ রামোস

আপডেট সময় ১১:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

এবার হাইতির রাজধানী পোর্টপ্রিন্সের একটি এতিমখানায় জন্ম হয়েছিল স্টিফেনকিকিরামোসের। জীবনের শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ঘেরা। কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়, যখন আর্জেন্টিনার একটি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা আর নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেই শিশুই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আলোচনায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দল থেকে উঠে এসে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব১৭ জাতীয় দলে।

বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলছেন রামোস। তার স্বাভাবিক পজিশন লেফট উইং হলেও প্রয়োজন হলে ডান প্রান্তেও সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলতে পারেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং বল হারানোর পরপরই প্রেসিং এসব গুণের কারণে বয়সভিত্তিক ফুটবলে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ভেলেজের যুব দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন রামোস। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই করেছেন ১২টি গোল। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে নিজের প্রতিভার বড় প্রমাণ দিয়েছেন। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব১৭ জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রামোস বলেন, আর্জেন্টিনাই তার বেড়ে ওঠার দেশ। এখানেই তিনি স্প্যানিশ ভাষা শিখেছেন, এখানেই গড়ে উঠেছে তার জীবন। ভেলেজের মূল দলে অভিষেক করা এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে খেলা এই দুটি স্বপ্নই এখন তাকে অনুপ্রাণিত করছে। দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে স্বাভাবিক লেফট উইঙ্গার পজিশনে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে দলটির কোচিং স্টাফ। সেই জায়গায় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে রামোসকে। বয়স, দক্ষতা এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে, যখন তার বয়স হবে মাত্র ২১ বছর, তখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।

রামোসের গল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হলো তার শিকড়। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। হাইতিতে জন্ম নেয়া এবং পরে আর্জেন্টিনায় দত্তক নেয়া রামোস ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারলে তিনি হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে নতুন এক ইতিহাসের অংশ হবেন। তাই তার যাত্রা শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের উত্থানের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়ও।