ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মিসাইল না থাকলে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো ইরান: ইরানের প্রেসিডেন্ট নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী স্কটল্যান্ডকে হারালে আরেক বিপদ ব্রাজিলের! শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠকের অপেক্ষা, আলোচনায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাক, থানায় ফের বিয়ে কিছু দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে কিন্তু ইরানের থাকবে না, এটা হতে পারে না: শেহবাজ ইরান রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে: রুবিও বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট মসজিদে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমামের মরদেহ উদ্ধার, রুমে মিলল চিরকুট হরমুজে ব*ন্দি ১১ হাজার নাবিক, উ’দ্ধা’রে’র অভিযানে জাতিসংঘ

জুলাইকে মুক্ত করুন দিল্লির দাসত্ব থেকে’: শহীদ মুগ্ধর স্মরণে বক্তব্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • ৫৬২ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মুগ্ধর প্রথম শাহাদাৎবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে তীব্র বক্তব্য উঠে এসেছে। শহীদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ মিলেছিল, কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা আমরা হারিয়েছি ১৯৭৫ সালে বাকশালের মাধ্যমে।”

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন, তাই তিনি জাতির পিতা হতে পারেন না। শেখ হাসিনাকে আখ্যা দেন “স্বৈরাচারতন্ত্রের দানবকন্যা” হিসেবে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে ঢাকার দিয়াবাড়ির অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এডাস্ট) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিতে অমলিন আমরা’ শীর্ষক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডাস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন ঘোষণা দেন, শহীদ মুগ্ধর নামে একটি মিনারেল ওয়াটার কারখানা স্থাপন করা হবে, এবং উৎপাদিত পানি বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, “মুগ্ধর আত্মত্যাগ ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির প্রতীক। পুলিশের গুলি, সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাহসিকতা দেখিয়ে মুগ্ধরা গণতন্ত্রের অক্সিজেন ছড়িয়ে দিয়েছিল।”

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ৫০টিরও বেশি জেলায় শিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। বলেন, “আইসিটির দুটি কোর্ট দিয়ে বিচার সম্ভব নয়, অন্তত ৬৪ জেলায় বিচারকাজ চালু করতে হবে।”

স্মরণসভায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন বলেন, “গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদ এখনো শেষ হয়নি। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে এডাস্টের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অনুষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল—

স্থিরচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী

মোমবাতি প্রজ্বলন

গ্রাফিতি অঙ্কন

শহীদদের স্মৃতিচারণ

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডাস্ট বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যগণ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, গবেষক ও মানবাধিকার সংগঠক, শিক্ষার্থী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মিসাইল না থাকলে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো ইরান: ইরানের প্রেসিডেন্ট

জুলাইকে মুক্ত করুন দিল্লির দাসত্ব থেকে’: শহীদ মুগ্ধর স্মরণে বক্তব্য

আপডেট সময় ০৮:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মুগ্ধর প্রথম শাহাদাৎবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে তীব্র বক্তব্য উঠে এসেছে। শহীদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ মিলেছিল, কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা আমরা হারিয়েছি ১৯৭৫ সালে বাকশালের মাধ্যমে।”

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন, তাই তিনি জাতির পিতা হতে পারেন না। শেখ হাসিনাকে আখ্যা দেন “স্বৈরাচারতন্ত্রের দানবকন্যা” হিসেবে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে ঢাকার দিয়াবাড়ির অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এডাস্ট) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিতে অমলিন আমরা’ শীর্ষক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডাস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন ঘোষণা দেন, শহীদ মুগ্ধর নামে একটি মিনারেল ওয়াটার কারখানা স্থাপন করা হবে, এবং উৎপাদিত পানি বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, “মুগ্ধর আত্মত্যাগ ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির প্রতীক। পুলিশের গুলি, সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাহসিকতা দেখিয়ে মুগ্ধরা গণতন্ত্রের অক্সিজেন ছড়িয়ে দিয়েছিল।”

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ৫০টিরও বেশি জেলায় শিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। বলেন, “আইসিটির দুটি কোর্ট দিয়ে বিচার সম্ভব নয়, অন্তত ৬৪ জেলায় বিচারকাজ চালু করতে হবে।”

স্মরণসভায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন বলেন, “গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদ এখনো শেষ হয়নি। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে এডাস্টের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অনুষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল—

স্থিরচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী

মোমবাতি প্রজ্বলন

গ্রাফিতি অঙ্কন

শহীদদের স্মৃতিচারণ

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডাস্ট বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যগণ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, গবেষক ও মানবাধিকার সংগঠক, শিক্ষার্থী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।