যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহ্যাম দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং সরকারে গিয়ে কী করতে চাই। আমার একটি পরিকল্পনা আছে (আই হ্যাভ আ প্ল্যান)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) লন্ডনের টিইউসি সদর দফতরে লেবার নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবা এবং আঞ্চলিক বৈষম্য নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান।
বার্নহ্যাম আরও জানান, তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে সামাজিক সেবা (সোশ্যাল কেয়ার) ব্যবস্থার সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাতে আরও প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া এবং যুক্তরাজ্যকে পুনরায় শিল্পায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া। যা নিয়ে তার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন কর্মজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তার সরকার সেই মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।
এ সময় তিনি গত চার দশকের ‘নব্য উদারপন্থি’ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে বলেন, এসব নীতি দেশের শিল্পভিত্তি দুর্বল করেছে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য বাড়িয়েছে। তাই নতুন সরকার ভিন্ন পথে হাঁটবে এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চায়।
এর আগে, গত মাসে লেবার পার্টির সাবেক নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে আসেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলের ৩৭৯ জন এমপি এবং লেবার-সংশ্লিষ্ট ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন পেয়ে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতা নির্বাচিত হন।
আগামী সোমবার (২০ জুলাই) রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















