যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেছেন, কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি। খবর ইরনার।
শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গির বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে রাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসনের উদ্যোগ নেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির জন্যও তাদের দায় বহন করতে হবে।
তিনি জানান, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের বিচার বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসিকিউটর, বিচার বিভাগের মানবাধিকার সদর দপ্তর, আইনজীবী কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
জাহাঙ্গির বলেন, যুদ্ধের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিভিন্ন প্রদেশের প্রসিকিউটররা বিচারিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নথিভুক্ত করেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঘটনায় তিন হাজারের বেশি দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্সিয়াল লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও এসব বিষয় তুলে ধরছে।
বিচার বিভাগের মানবাধিকার দপ্তর যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। রোম সংবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা; এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গির।
তিনি বলেন, ইরানের সপ্তম জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার দ্বিতীয় বছরে বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক বৈঠকে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















