জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকি। ইসলামাবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ ব্রিফিংয়ে বলেন, দায়েশ-খোরাসান, আল-কায়েদা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ইটিআইএম), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও মজিদ ব্রিগেডসহ বহু সন্ত্রাসী সংগঠন আফগানিস্তানের ঘাঁটি থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে ৬০টিরও বেশি সন্ত্রাসী শিবির সক্রিয় রয়েছে, যেগুলো সীমান্ত পেরিয়ে হামলার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
ইফতিখার জানান, পাকিস্তানের হাতে রয়েছে “বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ” যে এসব গোষ্ঠী যৌথ প্রশিক্ষণ, অস্ত্র বাণিজ্য, এবং সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে। প্রায় ৭০টি প্রচারমূলক অ্যাকাউন্ট আফগান আইপি থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া রোধ করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় হাজার যোদ্ধা নিয়ে টিটিপি বর্তমানে আফগান মাটিতে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী সংগঠন। সীমান্ত রক্ষার সময় চলতি মাসেই পাকিস্তানি সেনা ১২ জন নিহত হয়েছেন।
অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের বিষয়ে ইফতিখার বলেন, জাতিসংঘের ২০২৫ সালের হিউম্যানিটারিয়ান নিডস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ২৭ শতাংশ পেয়েছে। পাকিস্তান টানা চার দশক ধরে লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রায়ই অপ্রতুল। তিনি আরও বললেন, এই বোঝা আরও ন্যায্যভাবে ভাগাভাগি করা উচিত।
পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে জাতিসংঘের ১২৬৭ স্যাংশনস কমিটিকে বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেডকে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























