ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালেও রাজধানীর শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
এই বিক্ষোভকারীদের জন্য সিদ্ধেশ্বরী থেকে খাবার নিয়ে শাহবাগে ছুটে গেছেন ৬০ বছর বয়সী গৃহিণী রাশিদা রহমান। নিজের জমানো টাকা দিয়ে কলা, পাউরুটি, খেজুর ও শুকনো খাবার কিনে তিনি প্রতিবাদকারীদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেন। রাশিদা রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার সন্তানতুল্য ছেলে মারা গেছে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। সকালে উঠেই নিজের জমানো টাকা দিয়ে খাবার কিনে এখানে এসেছি।”
শাহবাগে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল সহকারে মানুষ জড়ো হচ্ছেন। হাতে পতাকা, মুখে নানা স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
শনির আখড়া থেকে এসে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান বলেন, “আমরা একজন দেশপ্রেমিক মানুষকে হারিয়েছি। প্রতিবাদ জানাতে সকালেই এখানে এসেছি।” রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস জানান, “এই মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”
হাদির মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে, যার ফলে কয়েকটি গণমাধ্যমের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















