ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্যারিস্টার আরমানের চিকিৎসা দরকার: রনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের পর ছেলেকে দিয়ে ক্লাস করানো সেই শিক্ষিকা বহিষ্কার হারাম টাকায় বাজেট করলে সেখানে কোনো বরকত হতে পারে না: নায়েবে আমির মুজিবুর মসজিদে বন্দুক হামলা, নিজের জীবন দিয়ে শত শিশুর প্রাণ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ শেখ হাসিনা ওপারে বসে বাংলাদেশের মানুষকে ডিস্টার্ব করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া: বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন শুভেন্দু পদোন্নতি বাতিলের পর বিমানের সেই কর্মকর্তা এবার বরখাস্ত যুদ্ধে জীবন দিতে চাওয়া ইরানিদের গণবিয়ে, সামরিক জিপে হাজির বর-কনে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়ে যে বার্তা দিলেন নেইমার আ.লীগ আমলের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার

মসজিদে বন্দুক হামলা, নিজের জীবন দিয়ে শত শিশুর প্রাণ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকেবীরহিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের দাবি, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলার ঘটনায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথ অতিক্রম করার সময় আমিন আবদুল্লাহ তাদের দিকে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে মৃত্যুর আগেই তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করেন। যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

নিহত অপর দুইজনের নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকানইসলামিক রিলেশনসসান ডিয়েগো (কেইরএসডি) তারা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে সদালাপী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেইরএসডির মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন। শিশুদেরও খুব স্নেহ করতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।হামলার ঘটনায় পুলিশ এটিকেঘৃণাজনিত অপরাধহিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাসা থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত এই তিন মুসলিমই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যারিস্টার আরমানের চিকিৎসা দরকার: রনি

মসজিদে বন্দুক হামলা, নিজের জীবন দিয়ে শত শিশুর প্রাণ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ

আপডেট সময় ১০:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকেবীরহিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের দাবি, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলার ঘটনায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথ অতিক্রম করার সময় আমিন আবদুল্লাহ তাদের দিকে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে মৃত্যুর আগেই তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করেন। যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

নিহত অপর দুইজনের নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকানইসলামিক রিলেশনসসান ডিয়েগো (কেইরএসডি) তারা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে সদালাপী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেইরএসডির মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন। শিশুদেরও খুব স্নেহ করতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।হামলার ঘটনায় পুলিশ এটিকেঘৃণাজনিত অপরাধহিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাসা থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত এই তিন মুসলিমই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।