ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে দেশে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মাঠে ফিরলেন নেইমার, তবে গ্রুপ পর্বে খেলা কঠিন তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলে চাঁদা দাবি করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার শ্রীমঙ্গলে তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক  ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ইতিহাস লিখতে যাচ্ছেন যে ফুটবলার আরও ১৫০০ কোটি তারল্য সহায়তা পেল ইসলামী ব্যাংক সাকিবের পর দীঘিও কি ‘পল্টি’ দিলেন? কালুখালীতপ জামায়াত কর্মী হত্যার পর মরদেহ আগুনের ঘটনায় গ্রপ্তার ৩ ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে প্রতিমন্ত্রী দিলেন ডিও লেটার, নাম প্রস্তাব বিএনপি নেতার, সংসদে ‘মিরাকল’

তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য ভারতের প্রধান বিচারপতির, ক্ষোভে যুবক বানালো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, ব্যঙ্গবিদ্রূপ আর অনলাইন প্রতিবাদের ঝড়।ককরোচ জনতা পার্টিনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনে ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন লাখো তরুণ। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত এক শুনানিতে মন্তব্য করেন, কিছু তরুণতেলাপোকার মতো‘, যারা কাজ পায় না, কোনো পেশায় জায়গা করতে পারে না, পরে তারা মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অধিকারকর্মী হয়েসবাইকে আক্রমণশুরু করে।

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়, বিশেষ করে জেনজি তরুণদের মধ্যে। পরে বিচারপতি তোপের মুখে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারীদের নিয়ে কথা বলেছেন, দেশের তরুণদের নয়। তরুণদের তিনিউন্নত ভারতের স্তম্ভবলেও উল্লেখ করেন। তবে ততক্ষণে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য পাস করা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, ‘যদি সব তেলাপোকা এক হয়ে যায়?’

এরপরই তিনি তৈরি করেনককরোচ জনতা পার্টিনামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। নামটি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টির নামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। দিপকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা যদি নাগরিকদের তেলাপোকা আর পরজীবী মনে করে, তাহলে তাদের বুঝতে হবে, তেলাপোকা জন্ম নেয় পচা জায়গায়। আর আজকের ভারত ঠিক সেরকমই।‘ 

মাত্র তিন দিনেককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য হয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ। বিরোধী দলের কয়েকজন পরিচিত রাজনীতিকও এতে যোগ দিয়েছেন। দেশটির সাবেক আমলা অশীষ যোশী বলেন, ‘দেশে ভয় আর ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষ কথা বলতে ভয় পায়। ককরোচ জনতা পার্টি যেন এক টুকরো স্বস্তির বাতাস।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তরুণদের বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক বিভাজনের হতাশা এই আন্দোলনকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর ৮০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হলেও তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য তরুণ ও অধিকারকর্মীদের প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাবেরই প্রতিফলন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে দেশে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য ভারতের প্রধান বিচারপতির, ক্ষোভে যুবক বানালো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আপডেট সময় ০১:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

এবার ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, ব্যঙ্গবিদ্রূপ আর অনলাইন প্রতিবাদের ঝড়।ককরোচ জনতা পার্টিনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনে ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন লাখো তরুণ। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত এক শুনানিতে মন্তব্য করেন, কিছু তরুণতেলাপোকার মতো‘, যারা কাজ পায় না, কোনো পেশায় জায়গা করতে পারে না, পরে তারা মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অধিকারকর্মী হয়েসবাইকে আক্রমণশুরু করে।

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়, বিশেষ করে জেনজি তরুণদের মধ্যে। পরে বিচারপতি তোপের মুখে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারীদের নিয়ে কথা বলেছেন, দেশের তরুণদের নয়। তরুণদের তিনিউন্নত ভারতের স্তম্ভবলেও উল্লেখ করেন। তবে ততক্ষণে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য পাস করা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, ‘যদি সব তেলাপোকা এক হয়ে যায়?’

এরপরই তিনি তৈরি করেনককরোচ জনতা পার্টিনামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। নামটি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টির নামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। দিপকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা যদি নাগরিকদের তেলাপোকা আর পরজীবী মনে করে, তাহলে তাদের বুঝতে হবে, তেলাপোকা জন্ম নেয় পচা জায়গায়। আর আজকের ভারত ঠিক সেরকমই।‘ 

মাত্র তিন দিনেককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য হয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ। বিরোধী দলের কয়েকজন পরিচিত রাজনীতিকও এতে যোগ দিয়েছেন। দেশটির সাবেক আমলা অশীষ যোশী বলেন, ‘দেশে ভয় আর ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষ কথা বলতে ভয় পায়। ককরোচ জনতা পার্টি যেন এক টুকরো স্বস্তির বাতাস।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তরুণদের বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক বিভাজনের হতাশা এই আন্দোলনকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর ৮০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হলেও তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য তরুণ ও অধিকারকর্মীদের প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাবেরই প্রতিফলন।