ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াত নেতার ভাইরাল ভিডিওটি এআই নয়, আসল: রিউমর স্ক্যানার জামায়াতের এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা যাচ্ছে ব্যর্থতা অনেক গভীর, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে: মেসি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার বাংলাদেশের কুয়েতে ব্যাপক হামলা ইরানের, মার্কিন রাডার ও ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে ফিফা, বড় নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা লক্ষ্মীপুরে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দেখতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে বেধড়ক পিটুনি বীরের বেশে দেশে ফিরল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, রাজকীয় সংবর্ধনা স্পেনের জয়ে ‘মালামাল’ মিয়া খালিফাও, আয় করলেন ১৬ কোটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত

জুলাই দখলের আন্দোলন জমে উঠেছে কলকাতায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

২১ জুলাই আদতে কার? এমন উত্তরের খোঁজে জুলাই দখলের আন্দোলন শুরু হয়েছে কলকাতাতেও। পুরো মাসের নয়, জুলাইয়ের ওই একটা বিশেষ দিন দখলের লড়াই। এই দখল জনতার নয়। দখলের লড়াইয়ে নেমেছে রাজনৈতিক দলের নেতারা। দখলের লড়াইয়ে ময়দানে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (আসল-ঋতব্রত), তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট-মমতা) ও এনসিপিআই। আর এমন দখলের লড়াইয়ে জুলাইয়ের শহিদ পরিবারেরা পড়েছেন ফাঁপরে। কার মঞ্চে যাবেন আর কার মঞ্চে যাবেন না, এমন প্রশ্নের তাড়নায় অনেকই চলে গিয়েছেন আত্মগোপনে।

 

৩২ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসূচি ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল কলকাতার ধর্মতলা চত্বর। সকাল ১০টা থেকে মহাকরণ অভিযানের জন্য জমায়েত শুরু হয়। কলকাতার পাঁচটি জায়গা থেকে যাত্রা শুরু হয়। এগোতে থাকেন যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। পুরোভাগে ছিলেন মমতা নিজে। বিভিন্ন মিছিলে ছিলেন সৌগত রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মদন মিত্ররা।

 

মহাকরণে পৌঁছনোর আগে পাঁচ দিক থেকেই ব্যারিকেড করে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। তাতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ধুন্ধুমার শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘাত বেঁধে যায় যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের।

 

পুলিশি বাধা ঠেকাতে শুরু হয় ইট-পাথরবৃষ্টি। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। সবমিলিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় মেয়ো রোড-রেড রোডের মোড়ে। বোমাও পড়ে। সারা কলকাতা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

 

 

অশান্তির ভরকেন্দ্র ছিল মধ্য কলকাতা। ধীরে ধীরে সারা কলকাতা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভ্যানে অগ্নি সংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এগোতে থাকে, পিছু হটতে শুরু করে পুলিশ। তখন গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশবাহিনী। আর তাতেই প্রাণ যায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর।

 

 

এরপর থেকে কংগ্রেসের ব্যানারেই মমতা প্রতিবছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে কংগ্রেসকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে নতুন দল গড়েন মমতা। দখল করেন কংগ্রেসের ২১ জুলাই। এরপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারেই চলতে থাকে শহিদ দিবস। ২০১১ সালে বাম বিদায়ের পর রাজ্যের ক্ষমতায় এলে মমতার দল ‘উৎসবের’ আবহে বৃহৎ পরিসরে রাজ্যে শুরু করে শহিদ দিবস পালন। কিন্তু ২০২৬ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পর মমতার কাছ থেকে কার্যত বেহাত হওয়ার অবস্থায় জুলাই।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভেঙে আপাতত চার টুকরো হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদীয় দল যোগ দিয়েছে অখ্যাত এনসিপিআইতে। পরিষদীয় দল নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। ধারে ভারে আপাতত তারাই তৃণমূল কংগ্রেসের মূল দল হিসেবেই বিধানসভার অঙ্গনে পরিচিতি পাচ্ছে।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা অবশিষ্ট দল কালীঘাট তৃণমূল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে যারা কোন পক্ষেই যেতে পারেনি তারা বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছে। আর সবারই দাবি জুলাই তাদের! আবার মমতার দলের এমন ভাঙনের সুযোগে পুরোনো জুলাই ইস্যু পালন করে বাংলার রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরতে মরিয়া জাতীয় কংগ্রেসও।

 

আপাতত যা দেখা গেছে, ‘আসল তৃণমূল’ অর্থাৎ ঋতব্রত শিবির মেয়ো রোডে গান্ধিমূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠান করার ছাড়পত্র পেয়েছে৷ আর সেই মঞ্চেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

কালীঘাট তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অবশিষ্ট তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের অদূরে ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে।

 

তবে মমতার সভার সঙ্গে একাধিক শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। সমাবেশে সর্বাধিক তিন হাজার মানুষ উপস্থিতি থাকতে পারবেন। কোনোভাবেই এই সংখ্যার বেশি মানুষ জমায়েত করা যাবে না। উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বও আয়োজকদের ওপরই বর্তাবে। সমাবেশের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্তই কর্মসূচি চালানো যাবে। এই সময়ের বাইরে সভা বা জমায়েতের অনুমতি নেই।

 

এর বাইরে জাতীয় কংগ্রেসের তরফে শহিদ মিনার চত্বরে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে জনসভার পাশাপাশি ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার বিভিন্ন ছবি প্রদর্শনীর করা হবে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শহিদ পরিবারের একাধিক সদস্যও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তবে মমতার দল তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করা নেতাদের হয়ে জুলাই দখলে ময়দানে মাস্টার্স স্ট্রোক দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু নিজেও যুব কংগ্রেস থেকেই ছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী । জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িত। অনেক জলঘোলা করে মমতার হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করা শুভেন্দু বর্তমানে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি শুভেন্দু ঘোষণা দেন, ১৯৯৩–এর ২১ জুলাইয়ের ঘটনার সত্যানুসন্ধানে গঠিত বিচারবিভাগীয় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনবেন।

 

পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের প্রাণ হারানোর সেই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ২০১১ সালের মে মাসে মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কিছু দিন পরে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করেন ওডিশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। কমিশন ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজ্য সরকারের কাছে প্রায় ৭০০ পাতার রিপোর্ট পেশ করে।

 

কমিশনের জন্য সরকারের খরচ হয় কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু ‘কমিশন অফ এনকোয়ারিজ় অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনও বিচারবিভাগীয় কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করার কথা সরকারের। একই সঙ্গে জানাতে হয়, সেই রিপোর্টে থাকা কোন সুপারিশগুলো গ্রহণ করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে। সে সব কিছুই হয়নি। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সুপারিশসহ রিপোর্টের সেই বিষয়বস্তু কখনোই সাধারণ মানুষের সামনে আনেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

 

তবে এখন রাজ্যবাসী মূলত দেখার অপেক্ষায়, মমতার আমলের কমিশনের তৈরি সেই রিপোর্টে শুভেন্দু কোন বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে আসে। অন্যদিকে আগামীকাল জুলাই দখলের লড়াইয়ে ঠিক কতটা জমে ওঠে কলকাতার রাজনীতির ময়দান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত নেতার ভাইরাল ভিডিওটি এআই নয়, আসল: রিউমর স্ক্যানার

জুলাই দখলের আন্দোলন জমে উঠেছে কলকাতায়

আপডেট সময় ০৯:৫২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

২১ জুলাই আদতে কার? এমন উত্তরের খোঁজে জুলাই দখলের আন্দোলন শুরু হয়েছে কলকাতাতেও। পুরো মাসের নয়, জুলাইয়ের ওই একটা বিশেষ দিন দখলের লড়াই। এই দখল জনতার নয়। দখলের লড়াইয়ে নেমেছে রাজনৈতিক দলের নেতারা। দখলের লড়াইয়ে ময়দানে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (আসল-ঋতব্রত), তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট-মমতা) ও এনসিপিআই। আর এমন দখলের লড়াইয়ে জুলাইয়ের শহিদ পরিবারেরা পড়েছেন ফাঁপরে। কার মঞ্চে যাবেন আর কার মঞ্চে যাবেন না, এমন প্রশ্নের তাড়নায় অনেকই চলে গিয়েছেন আত্মগোপনে।

 

৩২ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসূচি ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল কলকাতার ধর্মতলা চত্বর। সকাল ১০টা থেকে মহাকরণ অভিযানের জন্য জমায়েত শুরু হয়। কলকাতার পাঁচটি জায়গা থেকে যাত্রা শুরু হয়। এগোতে থাকেন যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। পুরোভাগে ছিলেন মমতা নিজে। বিভিন্ন মিছিলে ছিলেন সৌগত রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মদন মিত্ররা।

 

মহাকরণে পৌঁছনোর আগে পাঁচ দিক থেকেই ব্যারিকেড করে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। তাতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ধুন্ধুমার শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘাত বেঁধে যায় যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের।

 

পুলিশি বাধা ঠেকাতে শুরু হয় ইট-পাথরবৃষ্টি। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। সবমিলিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় মেয়ো রোড-রেড রোডের মোড়ে। বোমাও পড়ে। সারা কলকাতা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

 

 

অশান্তির ভরকেন্দ্র ছিল মধ্য কলকাতা। ধীরে ধীরে সারা কলকাতা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভ্যানে অগ্নি সংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এগোতে থাকে, পিছু হটতে শুরু করে পুলিশ। তখন গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশবাহিনী। আর তাতেই প্রাণ যায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর।

 

 

এরপর থেকে কংগ্রেসের ব্যানারেই মমতা প্রতিবছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে কংগ্রেসকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে নতুন দল গড়েন মমতা। দখল করেন কংগ্রেসের ২১ জুলাই। এরপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারেই চলতে থাকে শহিদ দিবস। ২০১১ সালে বাম বিদায়ের পর রাজ্যের ক্ষমতায় এলে মমতার দল ‘উৎসবের’ আবহে বৃহৎ পরিসরে রাজ্যে শুরু করে শহিদ দিবস পালন। কিন্তু ২০২৬ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পর মমতার কাছ থেকে কার্যত বেহাত হওয়ার অবস্থায় জুলাই।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভেঙে আপাতত চার টুকরো হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদীয় দল যোগ দিয়েছে অখ্যাত এনসিপিআইতে। পরিষদীয় দল নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। ধারে ভারে আপাতত তারাই তৃণমূল কংগ্রেসের মূল দল হিসেবেই বিধানসভার অঙ্গনে পরিচিতি পাচ্ছে।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা অবশিষ্ট দল কালীঘাট তৃণমূল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে যারা কোন পক্ষেই যেতে পারেনি তারা বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছে। আর সবারই দাবি জুলাই তাদের! আবার মমতার দলের এমন ভাঙনের সুযোগে পুরোনো জুলাই ইস্যু পালন করে বাংলার রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরতে মরিয়া জাতীয় কংগ্রেসও।

 

আপাতত যা দেখা গেছে, ‘আসল তৃণমূল’ অর্থাৎ ঋতব্রত শিবির মেয়ো রোডে গান্ধিমূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠান করার ছাড়পত্র পেয়েছে৷ আর সেই মঞ্চেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

কালীঘাট তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অবশিষ্ট তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের অদূরে ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে।

 

তবে মমতার সভার সঙ্গে একাধিক শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। সমাবেশে সর্বাধিক তিন হাজার মানুষ উপস্থিতি থাকতে পারবেন। কোনোভাবেই এই সংখ্যার বেশি মানুষ জমায়েত করা যাবে না। উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বও আয়োজকদের ওপরই বর্তাবে। সমাবেশের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্তই কর্মসূচি চালানো যাবে। এই সময়ের বাইরে সভা বা জমায়েতের অনুমতি নেই।

 

এর বাইরে জাতীয় কংগ্রেসের তরফে শহিদ মিনার চত্বরে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে জনসভার পাশাপাশি ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার বিভিন্ন ছবি প্রদর্শনীর করা হবে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শহিদ পরিবারের একাধিক সদস্যও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তবে মমতার দল তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করা নেতাদের হয়ে জুলাই দখলে ময়দানে মাস্টার্স স্ট্রোক দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু নিজেও যুব কংগ্রেস থেকেই ছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী । জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িত। অনেক জলঘোলা করে মমতার হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করা শুভেন্দু বর্তমানে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি শুভেন্দু ঘোষণা দেন, ১৯৯৩–এর ২১ জুলাইয়ের ঘটনার সত্যানুসন্ধানে গঠিত বিচারবিভাগীয় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনবেন।

 

পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের প্রাণ হারানোর সেই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ২০১১ সালের মে মাসে মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কিছু দিন পরে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করেন ওডিশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। কমিশন ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজ্য সরকারের কাছে প্রায় ৭০০ পাতার রিপোর্ট পেশ করে।

 

কমিশনের জন্য সরকারের খরচ হয় কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু ‘কমিশন অফ এনকোয়ারিজ় অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনও বিচারবিভাগীয় কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করার কথা সরকারের। একই সঙ্গে জানাতে হয়, সেই রিপোর্টে থাকা কোন সুপারিশগুলো গ্রহণ করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে। সে সব কিছুই হয়নি। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সুপারিশসহ রিপোর্টের সেই বিষয়বস্তু কখনোই সাধারণ মানুষের সামনে আনেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

 

তবে এখন রাজ্যবাসী মূলত দেখার অপেক্ষায়, মমতার আমলের কমিশনের তৈরি সেই রিপোর্টে শুভেন্দু কোন বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে আসে। অন্যদিকে আগামীকাল জুলাই দখলের লড়াইয়ে ঠিক কতটা জমে ওঠে কলকাতার রাজনীতির ময়দান।