ঢাকা , বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাদির দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই, লম্বা সময় থাকতে হতে পারে আইসিইউতে: ডা. রাফি ব্রেনের ফোলা কমেনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি: চিকিৎসক হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, অপারেশনের অপেক্ষায় ডাক্তাররা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক ফয়াসলই আমাকে হাদির কাছে নিয়ে গিয়েছিল: ফয়সালের সহযোগী জামায়াত যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুদ্ধে : আমির হামজা মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না ফিরছেন তারেক রহমান, বাসভবন-অফিস প্রস্তুত বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় স্লোগান, ইউএনওর বাধা ওসমান হাদিকে গুলি করা ফয়সালের সহযোগী কবির ৭ দিনের রিমান্ডে

জাককানইবি উপাচার্যের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা ও সাবেক দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সাবেক দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশ করে নিয়োগ–সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর (সফটওয়্যার) প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক (অর্থ) এস এম কাউসার আহমেদ, প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর (হার্ডওয়্যার) মোস্তাক আহম্মেদসহ ১০–১২ জন কর্মকর্তা এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ আহমেদ ও তানভীর আহমেদ উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘জামায়াতপন্থীদের প্রাধান্য’ এবং তদন্ত কমিটিতে ‘বিতর্কিতদের’ অংশগ্রহণের অভিযোগ তোলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং আসন্ন ২৪ নভেম্বরের প্রকিউরমেন্ট অফিসার নিয়োগে নিজেদের প্রার্থীকে বাছাই করার চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সময় উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রক্টর বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার যে ভঙ্গি দেখা গেছে, তা কাম্য নয়। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানান, অসদাচরণের মতো কিছু ঘটেনি, তবে তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু ছিল।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন ধরেননি। তবে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুধুমাত্র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিতদের’ রাখা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তানভীর আহমেদ জানান, সাংবাদিকতার প্রয়োজনে তিনি উপাচার্যের কক্ষে গিয়েছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাকে পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগের অভিযোগ জানানো হয়, তবে নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য হিসেবে একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা এবং কমিটির সুপারিশই নিয়োগ নির্ধারণ করে। চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি ইঙ্গিত দেন। ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদির দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই, লম্বা সময় থাকতে হতে পারে আইসিইউতে: ডা. রাফি

জাককানইবি উপাচার্যের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা ও সাবেক দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৯:৪৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সাবেক দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশ করে নিয়োগ–সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর (সফটওয়্যার) প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক (অর্থ) এস এম কাউসার আহমেদ, প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর (হার্ডওয়্যার) মোস্তাক আহম্মেদসহ ১০–১২ জন কর্মকর্তা এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ আহমেদ ও তানভীর আহমেদ উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘জামায়াতপন্থীদের প্রাধান্য’ এবং তদন্ত কমিটিতে ‘বিতর্কিতদের’ অংশগ্রহণের অভিযোগ তোলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং আসন্ন ২৪ নভেম্বরের প্রকিউরমেন্ট অফিসার নিয়োগে নিজেদের প্রার্থীকে বাছাই করার চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সময় উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রক্টর বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার যে ভঙ্গি দেখা গেছে, তা কাম্য নয়। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানান, অসদাচরণের মতো কিছু ঘটেনি, তবে তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু ছিল।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন ধরেননি। তবে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুধুমাত্র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিতদের’ রাখা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তানভীর আহমেদ জানান, সাংবাদিকতার প্রয়োজনে তিনি উপাচার্যের কক্ষে গিয়েছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাকে পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগের অভিযোগ জানানো হয়, তবে নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য হিসেবে একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা এবং কমিটির সুপারিশই নিয়োগ নির্ধারণ করে। চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি ইঙ্গিত দেন। ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।