ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
“পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন” ৫৪ জেলার পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক-আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের আশঙ্কা পঞ্চম সন্তানের প্রত্যাশায় নেইমার, বাড়ছে বিশ্বকাপে না ফেরার আশঙ্কা আগামী তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে: আশিক চৌধুরী “ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা, গ্রুপ পর্বেই নেই নেইমার” লন্ডনে এমপি হাসনাতের অনুষ্ঠানে ডিম নিক্ষেপ, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩ ২০০ ম্যাচের মহাকাব্যের দ্বারপ্রান্তে মেসি, গড়তে যাচ্ছেন নতুন ইতিহাস আমি জ্বালাময়ী কিছু সত্যি কথা বলব: অভিনেত্রী প্রভা নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা শরিফ পুশইনের অভিযোগে নতুন মোড়, ২৩ জনকে নিয়ে সীমান্ত থেকে সরে গেল বিএসএফ

যে সমাজে শিশুরা নিরাপদ না, সেখানে অন্য বয়সের মানুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়?: ছাত্রদলের নাসির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার স্কুল শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেনরামিসা আমাদের বোন, আমাদের কন্যা। প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সকালেও ছোট্ট রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল৷ আর দশটা দিনের মতোই সেদিনও ক্লাস, টিফিন, বন্ধুদের সাথে হৈহুল্লোড় করে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল৷ কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ঢাকার পল্লবীর ফ্ল্যাটেই ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন হতে হলো সাত বছরের ছোট্ট রামিসাকে৷

আমাদের বোন, আমাদের কন্যা রামিসার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের সামাজিক অবক্ষয়কে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল৷ আমরা কি এমন এক বর্বর সমাজের দিকে যাচ্ছি, যেখানে রামিসার মতো ছোট একটা শিশুও নিরাপদ থাকতে পারে না? যে সমাজে শিশুরা নিরাপদ না, সেখানে অন্য বয়সের মানুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়? আমাদের বোন, আমাদের কন্যা রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের আকুল আহ্বান, অতি সত্বর রামিসাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷ এই ঘটনার মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যেন এ ধরনের নারকীয়পাশবিক ও আদিম বর্বরতার পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস কেউ না দেখাতে পারে৷ তবে সামাজিক অবক্ষয়কে চিরতরে নির্মূল করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি আমাদের সামাজিক শক্তিগুলোরও দায়িত্ব আছে৷ পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান যদি সমাজে নৈতিকতার শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্বটি গ্রহণ করে, তাহলে পাশবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাটা সহজতর হবে বলে আমাদের বিশ্বাস৷

এ বিশ্বকে এশিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার৷

ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যেরছাড়পত্রকবিতার এই দুটি লাইন শিশুদের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সর্বজনীন ঘোষণার মতো৷ আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ৷ শিশুরা অনিরাপদ হওয়া মানে আমাদের ভবিষ্যতই হুমকির মুখে পড়া৷ আর কোনো শিশুকে যেন রামিসার মতো ভয়াবহ ঘটনার শিকার হতে না হয়, এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়; রামিসার বাবামায়ের মতো আর কোনো বাবামায়ের চোখ যেন এভাবে অশ্রসিক্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সরকার ও সামাজিক শক্তি সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন৷ আবারও দ্রুততম সময়ে আমাদের বোন রামিসা হত্যার যথাযথ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি৷ শিশুর হাসি যারা কেড়ে নেয়, তারা গোটা মানবজাতির শত্রু৷ আমাদের প্রত্যয়: হাসলে শিশু হাসবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

“পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন”

যে সমাজে শিশুরা নিরাপদ না, সেখানে অন্য বয়সের মানুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়?: ছাত্রদলের নাসির

আপডেট সময় ০৩:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার স্কুল শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেনরামিসা আমাদের বোন, আমাদের কন্যা। প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সকালেও ছোট্ট রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল৷ আর দশটা দিনের মতোই সেদিনও ক্লাস, টিফিন, বন্ধুদের সাথে হৈহুল্লোড় করে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল৷ কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ঢাকার পল্লবীর ফ্ল্যাটেই ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন হতে হলো সাত বছরের ছোট্ট রামিসাকে৷

আমাদের বোন, আমাদের কন্যা রামিসার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের সামাজিক অবক্ষয়কে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল৷ আমরা কি এমন এক বর্বর সমাজের দিকে যাচ্ছি, যেখানে রামিসার মতো ছোট একটা শিশুও নিরাপদ থাকতে পারে না? যে সমাজে শিশুরা নিরাপদ না, সেখানে অন্য বয়সের মানুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়? আমাদের বোন, আমাদের কন্যা রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের আকুল আহ্বান, অতি সত্বর রামিসাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷ এই ঘটনার মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যেন এ ধরনের নারকীয়পাশবিক ও আদিম বর্বরতার পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস কেউ না দেখাতে পারে৷ তবে সামাজিক অবক্ষয়কে চিরতরে নির্মূল করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি আমাদের সামাজিক শক্তিগুলোরও দায়িত্ব আছে৷ পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান যদি সমাজে নৈতিকতার শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্বটি গ্রহণ করে, তাহলে পাশবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাটা সহজতর হবে বলে আমাদের বিশ্বাস৷

এ বিশ্বকে এশিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার৷

ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যেরছাড়পত্রকবিতার এই দুটি লাইন শিশুদের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সর্বজনীন ঘোষণার মতো৷ আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ৷ শিশুরা অনিরাপদ হওয়া মানে আমাদের ভবিষ্যতই হুমকির মুখে পড়া৷ আর কোনো শিশুকে যেন রামিসার মতো ভয়াবহ ঘটনার শিকার হতে না হয়, এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়; রামিসার বাবামায়ের মতো আর কোনো বাবামায়ের চোখ যেন এভাবে অশ্রসিক্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সরকার ও সামাজিক শক্তি সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন৷ আবারও দ্রুততম সময়ে আমাদের বোন রামিসা হত্যার যথাযথ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি৷ শিশুর হাসি যারা কেড়ে নেয়, তারা গোটা মানবজাতির শত্রু৷ আমাদের প্রত্যয়: হাসলে শিশু হাসবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।