ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শাহজালাল (রহ.) মাজারের সিলগালা ডেগ খুললেন ডিসি সারওয়ার আলম এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করো: শিক্ষামন্ত্রী ‘অভিশপ্ত’ মূর্তির গায়েও আর্জেন্টিনার জার্সি, চমকে দিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা এমপি থেকে পিয়ন, সবার হাতে বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজির ‘সারপ্রাইজ বক্স’! ৭০০ বছরে প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা: গ্রেপ্তার আসামির ৩ দিনের রিমান্ড বিদায়ের আগে চা-শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করে কারামুক্ত করলেন ডিসি সারওয়ার ম্যারাডোনার ‘শতাব্দীর সেরা গোলের’ ৪০ বছর আজ, স্মৃতিকাতর কোচ স্কালোনি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় আগ্রহী চীনা ব্যবসায়ীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন গতি পেতে পারে। বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং যোগাযোগ খাতে চীনের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এবং বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার।

মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন। সফরকালে তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ গুরুত্ব পাবে। একইসঙ্গে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষর হতে পারে। দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং জলবায়ু নেতৃত্ববিষয়ক একটি অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিংয়ে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২৫ জুন বিডা আয়োজিতবাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশচীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে আমদানিনির্ভর এই বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত হতে পারে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, চীনা বিনিয়োগ অবকাঠামোর পাশাপাশি উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি ও লজিস্টিকস খাতে সম্প্রসারিত হলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতা দেশের উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশচায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু জানান, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আগ্রহী। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশচীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সাফল্য মূলত বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর নির্ভর করবে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল (রহ.) মাজারের সিলগালা ডেগ খুললেন ডিসি সারওয়ার আলম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় আগ্রহী চীনা ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ১১:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

এবার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন গতি পেতে পারে। বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং যোগাযোগ খাতে চীনের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এবং বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার।

মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন। সফরকালে তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ গুরুত্ব পাবে। একইসঙ্গে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষর হতে পারে। দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং জলবায়ু নেতৃত্ববিষয়ক একটি অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিংয়ে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২৫ জুন বিডা আয়োজিতবাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশচীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে আমদানিনির্ভর এই বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত হতে পারে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, চীনা বিনিয়োগ অবকাঠামোর পাশাপাশি উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি ও লজিস্টিকস খাতে সম্প্রসারিত হলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতা দেশের উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশচায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু জানান, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আগ্রহী। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশচীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সাফল্য মূলত বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর নির্ভর করবে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।