ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

সম্ভাব্য সমঝোতার পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, আশাবাদ পাকিস্তানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরান এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরান সফরের সময় আসিম মুনির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে “উৎসাহব্যঞ্জক” অগ্রগতি হয়েছে।

 

ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

 

নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং এখনও আলোচনা চলছে। আজ, আগামীকাল কিংবা কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আমরা কিছু জানাতে পারি।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “এই সপ্তাহে বিরোধ কমানোর দিকে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করতে হবে। আগামী তিন-চার দিনের পরিস্থিতি দেখেই বোঝা যাবে বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।”

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার মূল লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনা। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

আলোচনায় ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা নথিকে মূল কাঠামো হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তাগুলোকেও আলোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

 

বাঘাই বলেন, ইরানের জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কা দূর করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধ করা। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করা ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।

 

এদিকে মার্কো রুবিও আবারও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের টোল ছাড়াই উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।”

কালিবাফ বলেন, ইরান কূটনীতি ও যুদ্ধক্ষেত্র—উভয় পথেই নিজেদের “বৈধ অধিকার” রক্ষা করবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, “যে পক্ষের কোনো সততা নেই, তাদের বিশ্বাস করা যায় না।”

 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র “বোকামি করে আবার যুদ্ধ শুরু করে”, তাহলে এর পরিণতি শুরুতে যা হয়েছিল তার চেয়ে “আরও কঠোর ও তিক্ত” হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ইরান পরিস্থিতির কারণেও তিনি ছেলের বিয়েতে যোগ না দিয়ে ওয়াশিংটনেই অবস্থান করবেন।

 

দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরান তাদের প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলছে, তারা এসব সক্ষমতা সীমিত করতে চায়।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্ভাব্য সমঝোতার পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, আশাবাদ পাকিস্তানের

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরান এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরান সফরের সময় আসিম মুনির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে “উৎসাহব্যঞ্জক” অগ্রগতি হয়েছে।

 

ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

 

নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং এখনও আলোচনা চলছে। আজ, আগামীকাল কিংবা কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আমরা কিছু জানাতে পারি।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “এই সপ্তাহে বিরোধ কমানোর দিকে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করতে হবে। আগামী তিন-চার দিনের পরিস্থিতি দেখেই বোঝা যাবে বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।”

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার মূল লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনা। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

আলোচনায় ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা নথিকে মূল কাঠামো হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তাগুলোকেও আলোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

 

বাঘাই বলেন, ইরানের জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কা দূর করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধ করা। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করা ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।

 

এদিকে মার্কো রুবিও আবারও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের টোল ছাড়াই উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।”

কালিবাফ বলেন, ইরান কূটনীতি ও যুদ্ধক্ষেত্র—উভয় পথেই নিজেদের “বৈধ অধিকার” রক্ষা করবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, “যে পক্ষের কোনো সততা নেই, তাদের বিশ্বাস করা যায় না।”

 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র “বোকামি করে আবার যুদ্ধ শুরু করে”, তাহলে এর পরিণতি শুরুতে যা হয়েছিল তার চেয়ে “আরও কঠোর ও তিক্ত” হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ইরান পরিস্থিতির কারণেও তিনি ছেলের বিয়েতে যোগ না দিয়ে ওয়াশিংটনেই অবস্থান করবেন।

 

দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরান তাদের প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলছে, তারা এসব সক্ষমতা সীমিত করতে চায়।