ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জমি বিক্রি করে পতাকার আদলে বাড়ি সাজ, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলেই শামীমের বিয়ে মেসির ২ ম্যাচে ৫ গোল, আমি ২ বিশ্বকাপ খেলে গোল করতে পারিনি: ইব্রাহিমোভিচ ঢাকা উত্তরে সেলিম, দক্ষিণে সাদিককে মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত ঘুষ গ্ৰহনের ভিডিও ভাইরাল, একদিন পরই প্রত্যাহার পিআইও বাবুল তারেক রহমানের সফর ঘিরে ‘মহাজাদু’ গানে ভিডিও প্রকাশ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর গবেষণার উদ্দেশ্যে চিড়িয়াখানা ছেড়ে সাভারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী অবশেষে ঢাকার সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রেকর্ড গরমের আশঙ্কা, ইউরোপজুড়ে রেড অ্যালার্ট ইরানের চেয়ে তুরস্ক ইসরায়েলের বড় হুমকি: হিব্রু সংবাদপত্র

অবশেষে ঢাকার সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে ট্রাফিক বিভাগকে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব আলোচনায় অটোরিকশার চলাচল নিয়ে বিস্তারিত বিষয় ও সমস্যাগুলো উঠে আসে। কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তবে আলোচনায় উপস্থিত দুই পক্ষই অন্তত প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি বৈঠকের কথা রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের। আলোচনায় উপস্থিত থাকা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ দুই পক্ষই চায়, ঢাকার প্রধান সড়কে আর অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া না হোক। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরা চালুর পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভাঙা, উল্টো পথে চলাচল ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রায় সব ধরনের যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ইপ্রসিকিউশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এসব যানবাহনের বড় অংশের নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, নেই নির্ধারিত নম্বরপ্লেট, এমনকি চালকদেরও নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের দৃশ্য ধরা পড়লেও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। অটোরিকশার বিষয় উঠলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই অনুযায়ী আগামী মাসের ১৫ তারিখের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকে অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল আগেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জনবল সংকট ও ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি বিক্রি করে পতাকার আদলে বাড়ি সাজ, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলেই শামীমের বিয়ে

অবশেষে ঢাকার সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ১২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

এবার রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে ট্রাফিক বিভাগকে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব আলোচনায় অটোরিকশার চলাচল নিয়ে বিস্তারিত বিষয় ও সমস্যাগুলো উঠে আসে। কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তবে আলোচনায় উপস্থিত দুই পক্ষই অন্তত প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি বৈঠকের কথা রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের। আলোচনায় উপস্থিত থাকা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ দুই পক্ষই চায়, ঢাকার প্রধান সড়কে আর অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া না হোক। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরা চালুর পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভাঙা, উল্টো পথে চলাচল ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রায় সব ধরনের যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ইপ্রসিকিউশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এসব যানবাহনের বড় অংশের নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, নেই নির্ধারিত নম্বরপ্লেট, এমনকি চালকদেরও নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের দৃশ্য ধরা পড়লেও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। অটোরিকশার বিষয় উঠলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই অনুযায়ী আগামী মাসের ১৫ তারিখের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকে অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল আগেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জনবল সংকট ও ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।