আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে ধানের শীষের সমর্থক বাড়ছে। যেখানে নৌকা প্রতীকে ভোট দেন শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ। সেখানেই ফরিদপুর-১ আসনের (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের হাত ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আলফাডাঙ্গার হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বুড়াইচ ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে এক জনসভায় বিএনপিতে যোগদান করেন আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।’
স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের দলে যোগদান করাতে এই ইউনিয়নে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে। আপনাদের কাছে অনেকেই মিষ্টি কথা বলে আসার চেষ্টা করবে, আপনারা কারো মিষ্টি কথায় কান দেবেন না।
আপনাদের সুখে-দুঃখে বিপদে-আপদে আমরাই পাশে থাকব। আগামী নির্বাচনে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে দেওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান।
চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া প্রধান অতিথির হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়ার সময় বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগ আমাকে বহিষ্কার করেছিল।
আজ আমি বিএনপিতে যোগ দিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করব। তার এই যোগদান স্থানীয় বিএনপিতে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে তিনি জানান।
বুড়াইচ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরুর পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা যুব দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর প্রমুখ।
এ সময় বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
তবে ২০১৮ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করে। তবে তিনি দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যেতেন। সেই সময় তিনি অপর স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এরপর ২০২২ সালে তিনি পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















